এক সময় আর্থিক সংকটে পড়ে খেলোয়াড়দের বেতন দিতে মাছ বিক্রি করতে হয়েছিল,সেই নরওয়ের ছোট্ট ক্লাব বোদোকে।
অথচ এখন তারাই ইউরোপ কাঁপাচ্ছে। ইতিহাস গড়ে তারা জায়গা করে নিয়েছে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে।
সান সিরোর ঐতিহাসিক মঞ্চে ইতালির জায়ান্ট ইন্টার মিলান-কে ২-১ গোলে হারিয়ে দেয় বোদো।
দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে গত মৌসুমের রানার্সআপদের বিদায় করে দেয় নরওয়ের প্রতিনিধিরা। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে সাবেক এসি মিলান তারকা ইয়েন্স পেটার হাউগে ডিফেন্সের ভুলে এগিয়ে দেন দলকে।
পরে হাকন এভিয়েন দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান বাড়ান। শেষদিকে আলেসান্দ্রো বাস্তোনি এক গোল শোধ করলেও তা কেবল সান্ত্বনা হয়েই থাকে।
ক্লাবটির এই সাফল্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ একটি কারণে,১৯৯৭ সালের পর প্রথম নরওয়েজিয়ান দল হিসেবে তারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোয় উঠেছে। সর্বশেষ এই কীর্তি গড়েছিল রোজেনবর্গ।
আজকের সাফল্যের পেছনে আছে দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। ২০১০ সালে প্রায় দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার পথে ছিল বোদো। অর্থসংকটে জেলেরা ক্লাবকে বাঁচাতে মাছ দিতেন বিক্রির জন্য। ২০১৬ সালে শীর্ষ লিগ থেকে অবনমনও দেখতে হয়। কিন্তু ঘুরে দাঁড়িয়ে ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চারবার নরওয়ের শীর্ষ লিগ এলিতেসেরিয়েনের শিরোপা জেতে তারা।
বর্তমানে তাদের স্কোয়াডের বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি ৭১ লাখ ইউরো, যেখানে ইন্টার মিলানের মূল্য ৬৬ কোটি ৬৮ লাখ ইউরো! প্রায় ১২ গুণ বেশি।
সেই বিশাল ব্যবধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েই ইউরোপের মঞ্চে রূপকথা লিখছে বোদো!
মাছ বিক্রি করে টিকে থাকা ক্লাবটি এখন ম্যানচেস্টার সিটি,এটলেটিকো মাদ্রিদ আর ইন্টার মিলনকে হারিয়ে ইউসিএলের সুপার সিক্সটিনে,ফুটবল রূপকথা বোধহয় এমনই হয়!




