মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর পাশে দাঁড়িয়ে ইরানে হামলা নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে তালি দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল সুপারস্টার লিওনেল মেসি।
গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মেসি ও তার দল ইন্টার মায়ামিকে সম্মাননা জানানো হয়। মেজর লিগ সকারে শিরোপা জয়ের পর দলটিকে সংবর্ধনা দিতে এই আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প মেসির প্রশংসা করেন এবং বলেন, “হোয়াইট হাউসে স্বাগতম, লিওনেল মেসি,এ কথা বলার সুযোগ আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের হয়নি।” তিনি মেসিকে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবেও উল্লেখ করেন।
তবে অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে ট্রাম্প হঠাৎই ইরানকে নিয়ে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় “শত্রুকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করছে” এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী।
এই বক্তব্য শেষ হওয়ার পর উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে মেসি ও তার সতীর্থদেরও হাততালি দিতে দেখা যায়। সেই দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন,ইরানে হামলার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে কেন তালি দিলেন ফুটবলের এই মহাতারকা।
সামাজিক মাধ্যমে অনেক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, একজন বিশ্বখ্যাত ক্রীড়াবিদের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করা যায় না। ফিলিস্তিনি-আমেরিকান লেখক আলি আবুনিমাহ মেসির আচরণকে “স্বার্থপর ও শূন্য মানসিকতা” বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে অনেক ভক্তও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, মেসির মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের উচিত ছিল রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে দূরে থাকা।
তবে কে কেও বলছেন, মেসি ইংলিশ বুঝেন না তাই তিনি ভুলে দিয়েছেন তালি।
যদিও পুরো অনুষ্ঠানে মেসি নিজে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেননি। তবু ট্রাম্পের বক্তব্যের সময় তার উপস্থিতি ও তালি দেওয়ার ঘটনাই এখন বিশ্বজুড়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
প্রসঙ্গত যে সময় ট্রাম্পের মদদে হাজারো মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া হলো ইরানের,সেই সময়ে ট্রাম্পের সাথে দেখা করাটাই তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে,যাতে নিন্দা কুড়াচ্ছেন মেসি।




