ব্রাজিলের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার যেকোনো ফুটবল ম্যাচই আলাদা গুরুত্ব পায় ফুটবল প্রেমিদের কাছে।আর সাম্প্রতিক সময়ে বেশিরভাগ হারা ম্যাচে ৩ গোল হজম করছে আলভেসিলেস্তেরা।
এবার ব্রাজিলের কাছেও ৩ গোলে হারলো তারা।
প্যারাগুয়ের ভিলেতা শহরের এস্তাদিও আমেলিয়ানো ভিলেতায় শুক্রবার গভীর রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-১৭ দলকে একেবারে উড়িয়ে দিয়েছে ব্রাজিল অনূর্ধ্ব-১৭ দল।
তিন-শূন্য গোলের এই জয়ে তারা এক ম্যাচ বাকি থাকতেই অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ নিশ্চিত করে ফেলেছে। একই সঙ্গে সেমিফাইনালেও জায়গা পাকা করেছে দলটি।
শুরু থেকেই মাঠে ব্রাজিলের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। গতি, নিখুঁত পাস এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতায় তারা আর্জেন্টিনাকে চাপে ফেলে রাখে।
প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা ঠিকভাবে সংগঠিত হওয়ার আগেই ব্রাজিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় এবং প্রথমার্ধেই জয়ের ভিত গড়ে ফেলে।
খেলার পনেরো মিনিটের মাথায় কর্নার থেকে তৈরি হওয়া এক সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ডিফেন্সে সামান্য ভুলের সুযোগ নিয়ে রিকুয়ের্মে হেনরিক হেড করে বল জালে জড়িয়ে দেন।
এতে করে ম্যাচের গতি আরও বেশি করে নিজেদের দিকে নিয়ে আসে তারা। আর্জেন্টিনা এরপর কিছুটা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও ব্রাজিলের রক্ষণভাগ ছিল বেশ সুশৃঙ্খল।
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় ব্রাজিল। এডুয়ার্ডো পাপে দারুণ নৈপুণ্যে প্রতিপক্ষকে ফাঁকি দিয়ে বল বাড়িয়ে দেন রিকুয়ের্মে ফিলিপের কাছে, আর তিনি সহজেই বল জালে পাঠিয়ে স্কোরলাইন দুই-শূন্যে নিয়ে যান।
এতে করে বিরতিতে যাওয়ার আগেই ম্যাচ প্রায় ব্রাজিলের দখলে চলে যায়।
বিরতির পর আর্জেন্টিনা কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করলেও কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ব্রাজিল ধীরে ধীরে ম্যাচের গতি নিজেদের মতো করে চালাতে থাকে। শেষদিকে তারা আরেকটি আক্রমণ থেকে তৃতীয় গোলটি আদায় করে নেয়।
দ্রুত গতির আক্রমণে ডেভিড নোগেইরা গোলরক্ষককে পাশ কাটিয়ে বল বাড়িয়ে দেন এডুয়ার্ডো কনসেইসাওয়ের দিকে। তিনি জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে জয় নিশ্চিত করেন।
পুরো ম্যাচে আধিপত্য ধরে রেখে খেলা ব্রাজিল এই জয়ের মাধ্যমে গ্রুপে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। এখন তাদের সামনে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে শেষ ম্যাচ, যেখানে ফলাফলের চাপ না থাকলেও শীর্ষস্থান ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েই তারা মাঠে নামবে।




