ফুটবলের নবজাগরণ দেখা গিয়েছে শেষ কয়েক বছরে। এই সময়ে পুরুষ ফুটবলে যেমন হামজা, সোমিতের মত তারকারা এসেছেন, আবার সাফল্য এসেছে নারী ফুটবলেও। সেই সাফল্যের বড় অংশই নারীদের এশিয়া কাপে যাওয়া।
তবে এখানেই থেমে থাকার উপায় নেই। নারীদের সামনে এবার আছে স্বয়ং বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ নেই। যেখানে বিশ্বকাপে যেতে নারীদের বাধা মাত্র ৩ ম্যাচে। যে ৩ ম্যাচে জয় বাংলাদেশের ফুটবলকে পৌছে দেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে। যেখানে খেলে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার মত
কিন্ত কি সমীকরণে বিশ্বকাপে যাবে বাংলাদেশ? সামনে এশিয়া কাপের ম্যাচে বাংলাদেশ দল। অষ্ট্রেলিয়ার মাঠে সেখানে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে চীন সহ ৩ দেশ। যার মাঝে আছে নর্থ কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের নাম।
সেখানেই সমীকরণের সামনে বাংলাদেশ। যদি এই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হতে পারে বাঘিনীরা, তবে বিশ্বকাপে চলে যাবে বাংলাদেশ। সেটাও কোন বাছাইপর্ব না খেলে সরাসরি। অর্থাৎ চীন, কোরিয়া বা উজবেকিস্তানের সাথে জয় তাদের এনে দিবে বিশ্বকাপের টিকিট।
তবে বাস্তবতা বলে কাজটা মুখ শুনতে সহজ হলেও এটি সহজ নয়। ফিফা র্যাংকিংএ ১১২ তে বাংলাদেশ দল, চীন আছে ১৭ নাম্বারে। অপরদিকে নর্থ কোরিয়ার অবস্থান আরো ভালো। বিশ্বের বাঘা বাঘা দলের মাঝে সেরা দশে আছে তারা। আসরের ৭ বারের চ্যাম্পিয়ন চীন, উত্তর কোরিয়াও জিতে একাধিক আসর। এমনকি গ্রুপের সবচেয়ে সহজ দল উজবেকিস্তানের র্যাংকিং ৪৯, বাংলাদেশের চেয়ে আগানো যোজন যোজন
তাই সমীকরণ থাকলেও বাস্তবতা বেশ কঠিন। বরং এই মুহুর্তে এশিয়া কাপ খেলাই বড় অর্জন বাংলাদেশের সামনে। কেননা চীন ও উত্তর কোরিয়ার মত পরাশক্তিকে টপকে বাংলাদেশ হবে সবার সেরা, এটা হয়ত কেউ ভাবেননা স্বপ্নেও। তবে বিশ্বকাপের এত কাছে যেতে পারে, মাত্র ৩ ম্যাচের দুরত্বে নামিয়ে আনা, এটাও বা কম কিসে।
তবে অসম্ভব শব্দটা যে ফুটবলে সব সময় সত্যি হয় না, সেটার প্রমাণ বহুবার দিয়েছে ছোট দলগুলোই। ইতিহাস বলছে, বড় টুর্নামেন্টে চমক দেখানোর গল্পগুলোই সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা জোগায়। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলও এখন ঠিক সেই মোড়ে দাঁড়িয়ে।
হয়তো কাগজে-কলমে বাংলাদেশ পিছিয়ে। কিন্তু মাঠে ৯০ মিনিটে র্যাংকিং নয়, লড়াইটাই শেষ কথা। যদি বিশ্বাস, শৃঙ্খলা আর দলগত প্রচেষ্টা একসাথে মেলে, তবে তিন ম্যাচের ব্যবধান পার হলেও হতে পারে বাংলাদেশ।
সুতরাং স্বপ্নটা অনেকটা কঠিন হলেও আদতে এখনও স্পর্শযোগ্য। আর যদি সত্যিই সেই তিনটি ম্যাচে ইতিহাস লেখা যায়, তবে সেটিই হবে বাংলাদেশের ফুটবলের সবচেয়ে অপুর্ব জাগরণ।




