একটা সময় টেষ্ট ক্রিকেটে রীতিমতো ধুকত বাংলাদেশ দল। কালেভদ্রে যদি জয়টাও আসত, সেটাও ঘরের মাঠে স্পিন দুর্গ ব্যাবহার করে।
তবে বর্তমানে যেন বদলেছে সময়। টেষ্টে দলের হাল ধরেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, আর তাতেই বাংলাদেশও পাচ্ছে ছন্দ।
অধিনায়ক হিসেবে ১৮ ম্যাচ খেলে ৭ টাতেই জয় শান্তর। অধিনায়ক হিসেবে শান্তর মত ম্যাচ খেলে জয়ের পরিসংখ্যান নেই আর কারো।
শুধু যে শান্ত অধিনায়ক হিসেবে জয় পাচ্ছেন এমনটা নয় মোটেও। বরং অন্য খেলোয়াড়রা যেখানে অধিনায়কত্ব পেলে চাপে পড়ে পারফর্ম করতে ভুলে যান, সেখানে শান্ত অধিনায়কত্ব পেয়ে রান করতেই পছন্দ করেন।
ক্যারিয়ারে ৪১ টেষ্টের ৭৬ ইনিংসে ৪৬৪২ রান শান্তর। নিজের ক্যারিয়ারে তিনি ব্যাটিং করেছেন ৩৩ গড়ে। তবে অধিনায়ক শান্তর গড়টা এর চেয়ে বেশ ভালো, প্রায় ৪০ গড়ে করেছেন ১২৩২ রান।
শেষ দুই বছরে তো আরো উজ্জ্বল শান্ত, ব্যাট করেছেন ৫৫ ও ৭২ গড়ে। এই মুহুর্তে শান্ত যে বাংলার ক্রিকেটের স্তম্ভ।
শান্তর অধিনায়কত্ব শুরু হয় তুলনামূলক কঠিন সময়েই। টেস্ট ও ওয়ানডে ফরম্যাটে দল যখন ধারাবাহিকতা খুঁজছিল, তখন তাকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো শান্ত স্বভাব, ধৈর্য এবং মাঠে পরিকল্পনা ধরে রাখার ক্ষমতা। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের সাথে পরিকল্পনায় শান্ত এগিয়ে থাকেন অন্যদের থেকে, সিদ্ধান্ত নিতে পারেন দ্রুত।
অন্যদিকে লিটন দাসকে দেখা গেছে টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে নেতৃত্ব দিতে। লিটন মূলত একজন আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান, এবং তার অধিনায়কত্বেও সেই আগ্রাসনের ছাপ দেখা যায়।
পাওয়ারপ্লেতে আক্রমণাত্মক ফিল্ড সেটিং, ব্যাটিং অর্ডারে সাহসী সিদ্ধান্ত এবং তরুণদের সুযোগ দেওয়ার প্রবণতা তাকে আলাদা করেছে। টি২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশ নতুন ব্রান্ডের ক্রিকেট খেলছে, সেটার কৃতিত্ব অনেকটাই পাবেন লিটন।
তাহলে প্রশ্ন আসে,তারা কি অতীতের সব অধিনায়কের চেয়ে সেরা? উত্তরটা এক কথায় দেওয়া কঠিন। বাংলাদেশের মাশরাফির মত লড়াকু অধিনায়ক দেখেছে, ছিল সাকিব আল হাসানের মত বিশ্বসেরা একজন। আবার ট্যাকনিকালি তামিমও করেছিলেন দারুণ শুরু। লিটন শান্তরা সেই ধারায় যাচ্ছেন। যদিও অনেক পরিসংখ্যানে তারা এগিয়ে, তবে তারা সর্বকালের সেরা কিনা তার প্রমাণ হবে বড় আসরের সাফল্যে।
তবে একটা বিষয় পরিষ্কার, এই দুইজনই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাব্য শক্ত ভিত্তি। শান্ত বেশি টেকনিক্যাল ও স্থির নেতৃত্ব দেন, আর লিটন বেশি ইনস্টিংক্টিভ ও আক্রমণাত্মক সিদ্ধান্ত নেন। এই দুই ধরনের নেতৃত্ব একসাথে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে নতুন দিক দিতে পারে।




