গত বিশ্বকাপেও ছিলেন একসাথে, মাঠে থেকে করেছেন উজ্জাপন। এর আগেও দীর্ঘদিন কাধে কাধ মিলিয়ে করেছেন লড়াই৷ তবে সময়ের পরিক্রমায় তারা আজ নেই। এনহেল ডি মারিয়া আগেই সরে গিয়েছিলেন। আর বাস্তবতার ভীরে জায়গা হারালেন পাওলো দিবালা। তবুও লিওনেল মেসি খুজে বেড়ান পুরোনো দুই সতীর্থকে। তাদের জন্য যেন মন কাদে মেসির।
আর সেটাই যেন নিজের বার্তায় লেখলেন মেসি। দিবালার মত খেলোয়াড়ের বাদ পড়া ব্যাথিত করেছে মেসিকে। পাওলো দিবালাকে বিশেষ ফুটবলার বলেও উল্লেখ করেন দিবালা, জানান ড্রেসিংরুম শেয়ারের গল্প। একইসাথে এটাও অনুভব করাচ্ছে ফুটবলটা বদলে যাচ্ছে দ্রুত। যেখানে আবেগ আর প্রতিভার মুল্যয়ন হচ্ছে কম।
একইদিনে এনহেল ডি মারিয়াকেও স্মরণ করেন মেসি। জানান একইসাথে নিজেদের বিশ্বকাপ জয়ের গল্পের কথা। ধীরে ধীরে সেই প্রজন্ম শেষ হচ্ছে বলেও জানান মেসি। যাতে বিশ্বকাপও হারাবে রং, এমনটাই মনে করেন এই আর্জেন্টাইন তারকা।

নিজের সেই বার্তায় মেসি বলেন “
“পাওলো দিবালার মতো একজন খেলোয়াড়কে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ পরিকল্পনার বাইরে দেখে সত্যিই কষ্ট লাগে। আজকের ফুটবল খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে, আর অনেক সময় বিশ্বস্ততা, প্রতিভা ও আবেগ যেন হারিয়ে যাচ্ছে। দিবালা আমার দেখা সবচেয়ে প্রতিভাবান ফুটবলারদের একজন। ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করা খেলোয়াড়দের মধ্যে সে বিশেষ একজন। সে আবারও সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পাওয়ার যোগ্য ছিল।”
এরপর ডি মারিয়াকে নিয়ে মেসি বলেন “ প্রথমে আনহেল দি মারিয়া বিদায় বলল, এখন দিবালাও যেন বিশ্বকাপের ছবি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে সেই প্রজন্মটি শেষ হয়ে যাচ্ছে, যারা আর্জেন্টিনার জন্য নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিল। এটা কষ্টের, কারণ তারা এই জার্সিটা শুধু গায়ে চাপায়নি। তারা গর্ব, হৃদয় আর আত্মত্যাগ দিয়ে বহন করেছে।”
এই দুইজনকে একসাথে মনে করে মেসি বলেন “মানুষ শুধু ট্রফিগুলো মনে রাখে, কিন্তু সেই সাফল্যের পেছনের মানুষগুলোর কথা ভুলে যায়। আমার কাছে দিবালা সবসময়ই বিশেষ একজন ফুটবলার হয়ে থাকবে। সত্যি বলতে, তার মতো খেলোয়াড়রা যখন বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে থাকে না, তখন ফুটবল কিছুটা হলেও তার সৌন্দর্য হারায়।”
সব মিলিয়ে আর্জেন্টাইন ভক্তদের মত এই দুইয়ের না থাকা যে আঘাত করেছে মেসিকে, তা স্বীকার করলেন মেসি নিজেই। তবে বাস্তবতা এমনেই, এটা মেনে নিয়েই বিশ্বকাপে নজর রাখতে হবে আর্জেন্টাইন ভক্তদের।




