সোহেল রানার এই পাসটি দেখুন! নিখুতভাবে কিভাবে প্রতিপক্ষকে দিলেন। টনি ক্রুস, লুকা মদ্রিচরাও হয়ত এমন দারুণ ট্রিভেলা পাস দিতে পারবেননা৷
তবে তাদের থেকে এক ধাপ উপরে বাংলার সোহেল রানা। তার ট্রিভেলা চলে যায় সরাসরি প্রতিপক্ষের পায়ে। সেখানে প্রায় গোল হজম করেই বসেছিল বাংলাদেশ দল।
দলের নাম্বার ১৭ এসেছেন হোল্ডিং মিডফিল্ডার হিসেবে। তবে তিনি যেন ফুটবলে এই সময়ের সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডার রদ্রি, রাইস কিংবা এঞ্জোদের চেয়েও মহান।
ম্যাচের এক মুহুর্তে মাঝমাঠে এক টাচে বল বাড়ানো যায় ফারহানের দিকে, সেখান থেকে এক টাচে উইঙে বল বাড়িয়ে তৈরি করা যায় গোলের দারুণ এক সুযোগ। তবে হোল্ড করতে করতে সোহেল রানা বলটাই হারালেন।
কোন দলে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার মাঝমাঠে পাস সার্কুলেট করেন, নিজের দলের আক্রমণ আরো সচলিত করেন।
সোহেল রানা সেই কাজটা পারেননা, এতে খুব বেশি মন খারাপ আজকাল আর করেনা দেশের ফুটবল ভক্তরা।
তবে তার এক একটা দর্শনীয় পাসে আতকে উঠেন দর্শকরা। এই বুঝি তার পাস প্রতিপক্ষের পায়ে এসে তাদেরকে করে দিবেন কাউন্টার এট্যাকের সুযোগ।
সোহেল রানা বল পাস দিলে চলে যায় প্রতিপক্ষের কাছে। আবার বল হোল্ড করলে অন্ততকাল ধরে হোল্ড করেন প্রতিপক্ষ সুবিধাজনক জায়গায় না যাওয়ার পর্যন্ত।
হামজা- সামিতরা তো বটেই, দেশের জল হাওয়ায় থাকা সাদ উদ্দিনরাও রীতিমতো বিরক্ত হয়েছেন সোহেল রানার পাসিং দেখে। ফুটবলে মাঝমাঠ যেখানে করে সৌন্দর্যের বহিপ্রকাশ, সেখানে সোহেল রানা নিশ্চিত কদাকার।
তবুও কেন জানি সোহেল রানারা টিকে থাকেন। কখনও জামাল, কখনও সামিত বা কাজেমদের টপকে থাকেন শুরুর একাদশে৷ কোচ যায় কোচ আসে, অধিনায়ক হয়েই প্রতিপক্ষের জন্য খেলেন সোহেল রানা।
দেশের ফুটবলে হয়ত নেই সিন্ডিকেট, এটা হয়তবা দর্শকদের বানানোই শব্দ। তাই বলা যায় সৃষ্টিকর্তা সোহেলকে দুহাত ভরে দিয়েছেন। সোহেলও করেছেন এমন কোন পুণ্য, যে কারণে এমন পারফর্মেঞ্চের পরও তিনি একটা ফিফার আসরে নামেন একটা দলের আর্মব্যান্ড পড়ে।
মালেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রাপ্তি একরাশ লজ্জা। যে ম্যাচটায় ভক্তরা ভেবেছিলেন হামজা, ফারহানরা ম্যাজিক দেখাবেন, সে ম্যাচটাই পোষ্টার হয়ে থাকলো সোহেল তপুদের পারফর্মেঞ্চ। জাতীয় দলের হয়ে ৭০ এর অধিক ম্যাচ খেলেছেন সোহেল রানা। এতদিনে বলার মত পারফর্মেঞ্চ নেই, এমনকি দলকে নুন্যতম সাহায্য করতে পারেননাই। এরপরও সোহেল আছেন, সোহেল যেন অপরিবর্তনীয়। কোচ, ম্যানেজমেন্ট থেকে মাঠ, আসর সব পরিবর্তন হলেও সোহেল থেকে যাবেন তার জায়গায়।
সোহেলের এই প্রতিপক্ষকে দেওয়া ট্রিভেলাই তাই বাংলার মানুষজন উপভোগ করতে পারে। আগামী দিনে সোহেলদের পুরোটাই দায়িত্ব দেওয়া হোক বাংলার ফুটবলে। কেননা হামজা, সামিত, ফারহানদের ডেকে এনে সোহেলের মত খেলোয়াড় দেওয়া এবং বারবার প্রবাসীদের মান নিয়ে প্রশ্ন করা ফুটবল ম্যানেজমেন্টের জন্য মালেশিয়ার রেজাল্টই যেন শ্রেয় রেজাল্ট। আর সোহেল রানাই যেন তুলে ধরেছেন, কেন এখনও ফিফা র্যাংকিংএ ১৮০ এর পরে থাকা দেশের নাম বাংলাদেশ ।




