বিশ্বকাপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে প্রথম গোল হজম করে আর্জেন্টিনা দল। তবে এরপর থেকে ফাইনাল পর্যন্ত প্রতি ম্যাচেই এক বা একাধিক গোল হজম করে আলভিসেলেস্তারা।
কেপে ভার্দে, মিশরের মত দলও আর্জেন্টিনাকে দেয় একাধিক গোল। আর সেখানে বড় আকারে উঠে আসে আর্জেন্টিনার ফুলব্যাকের দুর্বলতা ও অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হয়ে যাওয়া।
বিশ্বকাপের পর তাই এই জায়গায় বড় বদল আর্জেন্টাইন কোচ স্কালোনির। আর সেই ধারাতেই দলে আসলেন রাশিয়ান লীগে খেলা তরুণ লেফট ব্যাক রোমান ভেগা। আর দলে এসেই প্রমাণ করলেন, কেন তাকে এত ভরসা করে দলে এনেছেন আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপজয়ী কোচ।
বলিভিয়ার বিপক্ষে এদিন শুরুর একাদশেই সুযোগ হয় ভেগার। আর সেখানেই পুরাটো সময়ই ছিলেন অনবদ্য।
প্রতিপক্ষকে এইদিকে কোন সুযোগই দেননি তিনি, বল পায়েও ছিলেন দুর্দান্ত। কাউন্টার থেকে বল নিয়ে বলিভিয়া আক্রমণে যেতে চাইলেও ভেগার কল্যাণে শুরুতেই থেমে যেতে হয় তাদের। এছাড়া বল ক্যারি করা ও মাঝমাঠের সমন্বয়েও ভেগা দেখান নিজের ম্যাজিক।
ম্যাচে ৯১ ভাগ সঠিক পাস খেলেন ভেগা, করেন সর্বোচ্চ ৯ বার ডিফেন্সিভ কন্ট্রিবিউশন। এর মাঝে ৬ বার ট্যাকেল করেন ভেগা, ২ বার ইন্টারসেপশন ও ৩ বার করেন রিকভারি।
১ বার ক্লিয়ারেন্স করেন। শারীরিকভাবেও বেশ ভালো লড়াই করেছেন ভেগা, ম্যাচে জিতেছেন মোট ৮ বার ডুয়েলস। একবার শট ব্লক করেছেন, এমনকি ৫ বার ফাইনাল থার্ডেও পাস দিয়েছেন।
ভেগার জন্য কাজটা সহজ ছিল না। ৪-৪-২ এ খেললেও মুলত অনেকটা ৪-২-৪ ফরমেশনে ছিল আর্জেন্টিনা দল।
আর সেখানেই উইঙ ব্যাবহার করে কাউন্টার করতে চায় আলভিসেলেস্তারা। তবে তাদেরকে সে সুযোগটাই দেননি ভেগা, নিজের কাজটা করেছেন দক্ষভাবে। আর সেখানেই জয় করেন ভক্তদের মন।
এর আগে বার্সেলোনার একাডেমিতে ছিলেন এই আর্জেন্টাইন। তবে বার্সেলোনার মুল দলে খেলা হয়নি কখনও। গত মৌসুমে আর্জেন্টিনা থেকে যান রাশিয়ার শীর্ষ ক্লাব সেন্ট জেনিতে।
স্কালোনির যে জহুরীর চোখ, সেটারই প্রমাণ ভেগা। যে কারণে ভক্তদের আলোচনার বাইরে থাকলেও স্কালোনি খুজে বের করেন তাকে, সুযোগ দেন দলে। আর সুযোগ পেয়েই নিজেকে পুর্ণ বিকাশিত করেন ভেগা।
যদিও আর্জেন্টিনা দলে ত্যাগলিফিকো আছেন, আছেন মেদিনাও। তবে আগামী দিনে ভেগাকেও নিয়মিত ভাবতে হবে স্কালোনিকে। হয়ত এমন প্রতিভা আর পারফর্মেঞ্চ ধরে রাখলেও মুল একাদশে নিয়মিত জায়গা পাওয়াও হবেনা কঠিন কিছু।




