একদিন পরেই
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে মঙ্গলবার বেনিনের বিপক্ষে শেষবার আর্জেন্টিনার হয়ে প্রীতি ম্যাচ খেলবেন মেসি। মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া ম্যাচটির পরই জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে। তার আগে মেসির প্রতি নিজের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কথা জানিয়েছেন রোমেরো।
রোমেরো বলেন, মেসির অনুপস্থিতি এরই মধ্যে অনুভব করতে শুরু করেছেন তারা। এমনকি মেসি জাতীয় দল থেকে বিদায় নেবেন- এটা জানলেও তার শূন্যতা এতটা তীব্র হবে, তা কখনো ভাবেননি তিনি। রমেরো বলেন,
‘সত্যি বলতে, এই আন্তর্জাতিক বিরতিতেই আমরা তাকে মিস করছি। অবশ্যই কোনো এক সময় এটা হওয়ারই ছিল। কিন্তু তার অনুপস্থিতি এতটা অনুভূত হবে, আমি কখনো ভাবিনি।’
মেসির নেতৃত্বের ধরনও রোমেরোর কথায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তার মতে, মেসি কখনো নিজেকে দলের অন্যদের চেয়ে ওপরে রাখেননি। বরং সব সময় দলকেই সামনে রেখেছেন।
ইংল্যান্ডকে হারানোর পরের একটি ভিডিওর কথা উল্লেখ করে রোমেরো বলেন, সেখানে দলের সবাই মেসির জন্য উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিলেন, কিন্তু মেসি তখনও দলের দিকেই ইঙ্গিত করেছিলেন। এই ঘটনাই মেসির চরিত্রের অন্যতম উদাহরণ বলে মনে করেন তিনি।
রোমেরোর ভাষায়, ‘আমি যখন ইংল্যান্ডকে হারানোর পরের ভিডিওটি দেখি, যেখানে সবাই তাকে নিয়ে উদযাপন করছে আর সে দলের দিকে ইঙ্গিত করছে, তখন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। সে আমাদের জন্য সব সময় এমনই ছিল। এ কারণেই আমার কাছে সে সর্বকালের সেরা ফুটবলার। তার ওপর সে অসাধারণ একজন মানুষ।’
মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনা দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন রোমেরো। বলিভিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি।
এই দায়িত্ব পাওয়ার পেছনে মেসিরও ভূমিকা ছিল বলে জানিয়েছেন রোমেরো। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অধিনায়ক হিসেবে তাকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে মেসি যুক্ত ছিলেন। নেতৃত্বের তালিকায় রোমেরোর পর ছিলেন এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ এবং লাওতারোই মার্তিনেজ।
রোমেরো বলেন, ‘সে-ও আমাকে জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে বেছে নিয়েছিল। আমার জন্য এটি অনেক বড় দায়িত্ব। কিন্তু সে এবং অবশ্যই কোচ মিলে আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়াটা অসাধারণ একটি বিষয়।’
মেসির সঙ্গে গত ছয়-সাত বছরে একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে নিজের জন্য বড় শিক্ষা হিসেবেও দেখছেন রোমেরো।
আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়ক বলেন,
‘গত ছয় বা সাত বছর আমরা একসঙ্গে ছিলাম। এই সময়ে তার কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি,’
মেসির সঙ্গে শুধু সতীর্থ হিসেবে নয়, ব্যক্তিগত বন্ধুত্বও তৈরি হয়েছিল রোমেরোর। ফুটবলের কারণেই এই সম্পর্ক তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেসির প্রতি তার ভালোবাসা সব সময়ই গভীর ছিল।
বিজ্ঞাপন
‘আমি সত্যিই তাকে ভালোবাসতাম। এরপর জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেলাম এবং তার সঙ্গে অনেক কিছু ভাগ করে নেওয়া শুরু করলাম। ফুটবলের মাধ্যমে আমাদের যে খুব সুন্দর একটি বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছিল, সেটি আমার জন্য বিশেষ কিছু।’
মেসির সঙ্গে এত বছর কাটানোর পর এখন তার বিদায় মেনে নেওয়া রোমেরোর জন্য কঠিন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
তবে মেসির প্রতি নিজের ভালোবাসা আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে না পারাকে নিজের সবচেয়ে বড় আফসোস হিসেবে দেখছেন আর্জেন্টিনার এই ডিফেন্ডার। তিনি বলেন,
‘আমার ভালোবাসা এভাবেই প্রকাশ পায়- হয়তো কিছুটা অগোছালোভাবে, কিছুটা অপরিপক্বভাবে। কিন্তু আমি তাকে বলেছি, তার প্রতি আমার যে ভালোবাসা সব সময় ছিল, সেটা তাকে যথেষ্ট দেখাতে না পারার জন্য আমার গভীর আফসোস হয়।’
মেসির বিদায়ের পর এই আফসোসই তাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেবে বলে জানিয়েছেন রোমেরো। তিনি বলেন, ‘এটাই আমার আফসোস হয়ে থাকবে। মানুষ যতটা ভাবছে, তার চেয়েও অনেক বেশি তাকে মিস করা হবে।’
সবশেষে মেসির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রমেরোর আবেগঘন বিদায়ী বার্তা, দিয়ে বলেন ‘ধন্যবাদ, ক্যাপ্টেন।’




