একজনের বিদায় যেন রাজকীয় আয়োজন। আরেকজনের বিদায় প্রায় নীরবেই! ফুটবল দুনিয়ার দুই মহাতারকার শেষ অধ্যায় যেন দুই ভিন্ন গল্পের নাম।
অথচ দুইজনই দলের দুই সেরা তারকা, তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। কিন্ত সম্মান প্রাপ্তিতে দুইজন আছেন ভিন্ন অবস্থানে।
লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে যার শেষ ম্যাচকে ঘিরে আয়োজনের কোনো কমতি রাখেনি দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পরও মেসির জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ বিদায়ী ম্যাচ। ৬ অক্টোবর বুয়েনস আয়ার্সের মনুমেন্টালে বেনিনের বিপক্ষে সেই ম্যাচে দেশের মানুষের সামনে শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখা যাবে তাদের সবচেয়ে বড় তারকাকে।
শুধু ম্যাচই নয়, মেসির বিদায়কে ঘিরে আবেগও স্পষ্ট। বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে তার নিজের শহরে, নিজের মানুষের সামনে বিদায় জানানোর সুযোগ করে দিয়েছে আর্জেন্টিনা। অথচ একই সময়ে নেইমার জুনিয়রের গল্পটা যেন একেবারেই আলাদা।
ব্রাজিলের জার্সিতে চারটি বিশ্বকাপ খেলেছেন নেইমার। পেলের পর ব্রাজিলের হয়ে চার বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সি পরা দ্বিতীয় খেলোয়াড়ও তিনি।
ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি, গোল এসিস্টেও সবার উপরে। গত এক যুগের বেশি সময় অনেকটা একা হাতেই টেনে নিয়েছেন সেলেসাওদের। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ অধ্যায়টা এসেছে অনেকটা অগোচরেই।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে ব্রাজিলের বিদায়ের পরই নেইমার জানিয়ে দেন, জাতীয় দলের হয়ে তার সময় শেষ।
পরে জুলাইয়ে আরও স্পষ্ট করে বলেন, ব্রাজিলের হয়ে আর খেলতে চান না।প্রশ্নটা এখানেই, এমন একজন কিংবদন্তিকে কি অন্তত একটি বিদায়ী ম্যাচ দেওয়া যেত না?
নেইমার হয়তো মেসির মতো বিশ্বকাপ জিততে পারেননি। ব্রাজিলকেও এনে দিতে পারেননি বহু প্রতীক্ষিত ষষ্ঠ বিশ্বকাপ।
কিন্তু দেশের হয়ে ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল, এমন পরিসংখ্যানই বলে দেয় ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে তার জায়গাটা কতটা বড়। চারটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া, ব্রাজিলের সর্বকালের অন্যতম সেরা গোলদাতা হওয়া,এসব কি একটি বিদায়ী রাত পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়?
নেইমারের গল্পটা হয়ত ততটা অর্জনের নয়, কিন্ত সংগ্রামের দিক থেকে তো মেসিকেও ছাড়িয়ে যাবেন তিনি। চোট তাকে বহুবার মাঠের বাইরে রেখেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের আগেও মার্চের দলে জায়গা হয়নি তার। শেষ পর্যন্ত আনচেলত্তি তাকে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে রাখেন এবং নেইমারও বিশ্বকাপে খেলেন। কিন্তু বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর জাতীয় দলের নতুন অধ্যায়ে ব্রাজিল যখন তরুণদের নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, নেইমার সেখানে আর নেই।
অবশ্য এটাও সত্যি, ব্রাজিল এখন নতুন প্রজন্ম তৈরিতে মনোযোগ দিচ্ছে। বিশ্বকাপের পর প্রথম আন্তর্জাতিক উইন্ডোতেই আনচেলত্তি বেশ কয়েকজন নতুন খেলোয়াড়কে সুযোগ দিয়েছেন।তবুও প্রশ্ন থেকে যায়, নেইমারের জন্য কি একটি ম্যাচ আলাদা করে রাখা যেত না? পাশের দেশ যখন নিজেদের লিজেন্ডকে সম্মান করছে, তখন ব্রাজিল যেন অবহেলাই করছে নেইমারের প্রতি। আর সেটা প্রতিটা ব্রাজিল ও নেইমি ভক্তদের কাছেই বেদনার নাম।




