আশিয়ানের শুরুর ম্যাচে বাংলাদেশ দলের হার। তবে শেষ ম্যাচটা ছাড়িয়ে গেছে সবকিছুকে। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ শুধু হারলোই না, হজম করলো মোট ৯ গোল।
এমন হারের সংবাদে বিপর্যস্ত থাকে দেশের ফুটবল ভক্তরা। তবে একইদিনে আরো এক সংবাদে চমকে যায় তারা।
ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে যেদিন ম্যাচ হারে বাংলাদেশ, সেদিন রাতেই পার্টিতে যোগদান করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের দুই তারকা সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানা জুনিয়ারের সেই পার্টিতে যোগদানের খবর জানা যায়। ইন্দোনেশিয়ান এক মডেলের টুইট থেকে যায় পুরোটা।
আর তাতে ক্ষিপ্ত হয় পুরো ফুটবল সমর্থকদের। আশিয়ানে দল যখন একের পর এক হারে বিপর্যস্ত, তখন সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানা জুনিয়ারের বিদেশে গিয়ে পার্টিতে অংশগ্রহণ অবাক করে দেশের ফুটবল ভক্তদের।
অনেকে পেশাদারিত্ব নিয়ে তোলেন প্রশ্ন। অনেকেই বলেন ফুটবলাররা খেলাটাকে গুরুত্ব দেননা, বরং খেলাকে কাজে লাগিয়ে করেন বিলাসী জীবন।
এমন ঘটনা এড়ায়নি বাংলাদেশ ফুটবলের অভিভাবক বাফুফেরও। যে কারণে এবার কঠিন পদক্ষেপের সামনে তারা।
এমন ঘটনার পর ছাড় পাচ্ছেননা সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানা জুনিয়ার। তাদের বিপক্ষে করা হচ্ছে তদন্ত
এ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেছেন ক্রিয়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম। এমন ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তার ক্রিড়া ভাতা বাতিলের কথাও বলেন সাবেক এই ফুটবল তারকা।
খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা ও আচরণের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট দুই ফুটবলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ নিয়ে সাংবাদিকদের আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলছি, তাদের নাইট ক্লাবে যাওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর তারা যদি ক্রীড়া ভাতা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকেন, তবে তাও বাতিল করা হবে।’
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বা বাফুফের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান আমিনুল হক। তিনি বলেন, “আমি বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন। তিনি ফিরলে বাকি বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবো। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”
তদন্তের মাধ্যমে শুধু দুই ফুটবলারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগই নয়, পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপটও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। আর এমন পারফর্মেঞ্চের পর পার্টিতে যোগদানের বিষয়টি আঘাত করেছে প্রতিমন্ত্রীকেও। তার ভাষায়, “এ ধরনের পারফরম্যান্সের পর তারা কীভাবে এমন কাজ করার সাহস পেলো, তাও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। পুরো বিষয়টিরই নিরপেক্ষ তদন্ত হবে।”
যদিও পুরো ঘটনা আগে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দুই ফুটবলার। তবে তদন্তে প্রমাণিত হলে তাদের ফুটবল ক্যারিয়ারে যে বড় আঘাত আসতে চলেছে, তাতে নেই কোন সন্দেহ। এবার দেখা যাক, চুড়ান্ত রিপোর্ট কোনদিকে গড়ায়।




