মাথায় সাদা বড় চুল, সাথে হেডব্যান্ড। বা পায়ে খেলেন, বা পায়েই থাকেন রাইট উইঙে। এক মুহুর্তের জন্য আপনার মনে হবে এটা যেন লিওনেল মেসির বর্ণনাই।
তবে মেসির পরবর্তী প্রজন্মের একজনের বর্ণনাই করা হচ্ছে এভাবে। আর সেটা নিকো পাজ।
কোমোর এই নাম্বার টেনের আর্জেন্টিনার জার্সিতে সময়টা কেটেছে দুর্দান্ত। বলিভিয়ার বিপক্ষে গোল এসিস্ট পেয়েছেন, গোল পেয়েছেন বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে।
বলিভিয়ার বিপক্ষে চাঞ্চ ক্রিয়েটে ও শটে ছিলেন সবার সেরা, তার ফিনিশিং ও পাস যেন নজর কাড়ে সব ভক্তদের। এরপর বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষেও ৪৬ মিনিট খেলে আদায় করেন গোল, দাপট রাখেন সব জায়গায়।
এমন পারফর্মেঞ্চের পরও অবশ্য বেনিনের বিপক্ষে শুরুর একাদশে জায়গা পাননি পাজ। শেষবেলায় লিওনেল মেসির সাথে লাউতারো ও আলভারেজকে নিয়ে দল সাজান স্কালোনি।
তবে বদলি নেমে এবার ম্যাজিক দেখান পাজ। মেসির পাসে গোল করে পাজ যেমন আনেন পুর্ণতা, আবার একইসাথে অনেক প্রশ্নের উত্তরও দেন।
এদিন ৫৯ মিনিটে আলভারেজের বদলে মাঠে নামেন পাজ। এরপর মাত্র ১ মিনিটের মাথায় আদায় করেন গোল।
লিওনেল মেসির বাড়ানো বল পাজ পান ডিবক্সের সামনে থেকে। আর সেখানেই দুর্দান্ত এক কার্ল করেন পাজ।
ডিবক্সের বাইরে থেকে হঠাৎ করে পা বায়ের বাকানো ম্যাজিকাল শট। যে শট একদিকে ছিল যেমন অপ্রত্যাশিত, আবার ছিল না এর কোন উত্তর। যে কারণে সব মিলিয়েই যেন দিশেহারা হয়ে গোল হজম করে বেনিন গোলরক্ষক।
মেসির পাসে গোল, এই মুহুর্ত আর আসার সম্ভাবনা নেই জীবনে। পাজ জেনেই তাই উজ্জাপনে ছুটে গেলেন মেসির দিকে। আর সেখানে গিয়ে জড়িয়ে ধরলেন মেসিকে। নিজের আন্তজার্তিক ক্যারিয়ারের প্রথম এসিস্ট আসে লিওনেল মেসির গোলে। এবার লিওনেল মেসি তার শেষ আন্তজার্তিক ম্যাচে এসিস্ট করেন নিকো পাজকে। এর চেয়ে সুন্দর কিছু পাজের জন্য আর কিবা হতে পারে।
যদিও আক্ষেপের জায়গাও আছে। বিশ্বকাপে এই পাজকে খুজেছিল ভক্তরা, অনেকেই বলেছিলেন মেসি পাজ জুটিকে দেখার জন্য।
তবে টেকনিকাল কারণে তাদের একসাথে নামানো হয়নি মাঠে। শেষ পর্যন্ত তাই বিশ্বকাপ জয় থেকে দুরেই শেষ করতে হয় আলভিসেলেস্তাদের। তবে সে আফসোসের গল্প এখন করতে চাইবেনা আর্জেন্টিনা। আগামী দিনে পাজের হাত ধরে আসুক নতুন দিনের সফলতার গল্প, এটাই চায় আর্জেন্টিনার ভক্তরা।




