বয়সটা ৩৮ বছর, ইউরোপ ছেড়েছেন এই বছরেই। জাতীয় দলেও একাদশে জায়গা ছিল না নিয়মিত।
আর্জেন্টাইন ভক্তদের তাকে নিয়ে আক্ষেপের জায়গাও অনেক থাকতে পারে। কিন্ত দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টাইন ডিফেন্সের জেনারেল নিকোলাস ওটামেন্ডিই।
সবসময় আড়ালের নায়ক হয়ে থেকেছেন অন্যদের ভীরে৷ তবে বিদায়বেলা ঠিকই বুঝালেন নিজের গুরুত্ব। আরো একবার হেডে গোল করে শেষদিনে এসে হলেন নায়ক।
বেনিনের বিপক্ষে লড়াইটা শুরুর হাফে সহজ হয়নি আর্জেন্টিনা দলের। যদিও আর্জেন্টিনা একের পর এক সুযোগ তৈরি করে, তবে মেসি লাউতারোরা ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছিল না সুযোগ। আবার কখনও বেনিনের ডিফেন্স ভাঙতে ব্যার্থ হচ্ছিলেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা। যে কারণে শুরুর হাফে গোলশুন্যই কাটাতে হয় দুই দলকে। তবে এই ডেডলক ভাঙেন নিকোলাস ওটামেন্ডি।
বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার গোল আসে ম্যাচের ৪৮ মিনিটে। নিজের শেষ ম্যাচে এবার কর্নার কিকে লিওনেল মেসি। মেসির সেই বা পায়ের করা কর্নারেই লাফিয়ে উঠে হেড আদায় নিকোলাস ওটামেন্ডির। তার এই হেডের গন্তব্য এতটাই নিখুত ছিল যে, কিছুই করার ছিল না বেনিনের গোলরক্ষক মার্সেলের। আর সেটাই ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ আনায় আর্জেন্টিনা দলকে।
ওটামেন্ডির বিদায়ী ম্যাচের গোলটা যেন তার ক্যারিয়ারের প্রতিচ্ছবিই। মাঠের ক্রিকেটে ওটামেন্ডি এগ্রেসিভ ছিলেন, তাতে সন্দেহ নেই। তবে তার মত এরিয়ালে দুর্দান্ত খুব কম খেলোয়াড়ই ছিলেন। এর সাথে নেতৃত্ব গুণের জন্য জেনারেল উপাধিও পেয়েছিলেন। ডিফেন্সেও যেমন দুর্দান্ত তিনি, আবার কর্নার কিকেও তার গোলের সংখ্যা কম নয়। আর্জেন্টিনার জার্সিতেই আছে ৯ গোল, যার অধিকাংশ এই কর্নারে হেড থেকেই। ক্লাবেও এমন কীর্তি করেছেন বহুবার। বিদায়ী ম্যাচে তাই ফুটে উঠেছে ওটামেন্ডির আসল রুপই।
আর শেষ ম্যাচে মেসির কর্নার থেকে তার হেডে গোল, এর চেয়ে সুন্দর বিদায় হয়তো আর চাইতেও পারেননি তিনি। যে সতীর্থের সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়েছেন, সেই মেসির পাসেই শেষবারের মতো জালের দেখা পেলেন। যেন পুরো ক্যারিয়ারটাই এক মুহূর্তে ফিরে এলো।
৩৮ বছরের ওটামেন্ডি এবার সত্যিই বিদায় নিলেন। হয়তো আর আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাকে দেখা যাবে না, কিন্তু মেসিদের সেই সোনালি প্রজন্মের গল্পে তার নামটা থেকে যাবে। আড়ালের এই জেনারেল এবার মঞ্চ ছাড়লেন মাথা উঁচু করেই। বিদায়, মিস্টার জেনারেল!




