২০২৪ সালের আগস্টে গুঞ্জন, ব্যালন ডি অর উঠেছে ভিনিসিয়াসের হাতে। সেই মৌসুমটা কি দুর্দান্তই না কাটান এই ব্রাজিলিয়ান।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন লীগ ও লা লীগা জয় করেন, থাকেন দলের প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে। ক্লাবের হয়ে ৩৩ গোল এসিস্ট করেন, তবে বড় ম্যাচে তার পারফর্মেঞ্চ থাকে মাষ্টারক্লাস হিসেবে। মাঠের এমন সফলতার প্রভাব পড়ে ট্রান্সফারমার্কেটেও।
তখনকার ট্রান্সফারমার্কেটে ভিনিসিয়াসের দাম উঠে ২০০ মিলিয়ন ইউরো, যা বাংলাদেশের টাকায় প্রায় ২৭৬০ কোটি টাকা। দামের দিক থেকে ভিনিসিয়াসের চেয়ে আগানো থাকেননা আর কোন খেলোয়াড়।
অথচ চিত্র বদলাতে সময় লাগেনা বেশিদিন। একটা সময়ের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় এখন নেই সেরা নয়ের মাঝেও।
গত ১৮ মাসে ভিনিসিয়াসের মুল্য কমেছে প্রায় ৪০ ভাগ। বর্তমানে এই ফুটবলারের মুল্য দাড়িয়েছে ১৩০ মিলিয়ন ইউরো, কমেছে প্রায় ৭০ মিলিয়ন ইউরো। বাংলাদেশের টাকায় যা দ্বাড়ায় ৯৬৫ কোটি টাকা। মাত্র ১৮ মাসেই এত অধপতন ভিনিসিয়াসের।
ট্রান্সফারমার্কেটে দামী খেলোয়াড়ের তালিকায় সবার উপরে আছেন লামিন ইয়ামাল, যার বর্তমান মুল্য ২২০ মিলিয়ন ইউরো বা ৩ হাজার ৩০ কোটি টাকা।
একই মুল্য নিয়ে দুইয়ে অবস্থান নরওয়ের আর্লিং হলান্ডের। ভিনিসিয়াসের ক্লাব সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপ্পের মুল্য ২০০ মিলিয়ন ইউরো বা ২৭৫ কোটি টাকা। ফ্রাঞ্চের মাইকেল অলিসে তালিকার চারে আছে ১৮০ মিলিয়ন ইউরো নিয়ে।
এরপর তালিকায় আছেন ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম, জর্জিয়ান কাভারাৎখেলিয়া ও স্পেনের পেদ্রি। এমনকি পর্তুগালের ডিফেন্ডার জোয়াও নেভেসও দামের দিক থেকে ছাড়িয়ে গেছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়ারকে।
এই মুহুর্তে বিশ্বের ১০ম দামী খেলোয়াড় ভিনি। এমনকি নিজ ক্লাবের দিক থেকেও তালিকায় আছেন তিন নাম্বারে।
এর জন্য বড় আকারে দায়ী অবশ্য ভিনিসিয়াসের মাঠের পারফর্মেঞ্চ। আগের সেই ধারাবাহিকতা, গোল-অ্যাসিস্ট কিংবা বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতা, সবকিছুতেই যেন কিছুটা ভাটা পড়েছে।
রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগে এখনও গুরুত্বপূর্ণ একজন ভিনিসিয়াস, কিন্তু আগের মতো প্রতিটি ম্যাচে তার পারফরম্যান্স এখন আর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয় না। তার ওপর দলের ভেতরে এমবাপ্পের উপস্থিতিও বদলে দিয়েছে আক্রমণভাগের সমীকরণ।
ফলে একসময় যে ভিনিসিয়াসকে বিশ্বের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় হিসেবে দেখা হচ্ছিল, এখন যেন তাকেই নিজের জায়গা ধরে রাখার লড়াই করতে হচ্ছে।
ভিনিসিয়াসের বয়স এখনও মাত্র ২৬। তাই হারানো ছন্দ ফিরে পেলে আবারও ট্রান্সফারমার্কেটের শীর্ষে উঠতে পারেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
এখন প্রশ্ন একটাই, ভিনিসিয়াস কি ফিরবেন নিজের সেই পুরোনো রূপে, নাকি সত্যিই হারিয়ে যাবে একসময়ের বিশ্বসেরা ভিনি? সময়ই দিয়ে দেবে সবকিছুর উত্তর।




