লিওনেল মেসির বিদায় শুধু আর্জেন্টিনার ফুটবলে একটি যুগের সমাপ্তি নয়, এর প্রভাব পড়তে পারে মাঠের বাইরের বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যেও।
জাতীয় দলের সবচেয়ে বড় তারকা হিসেবে মেসিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিপুল দর্শক, স্পনসর ও বাণিজ্যিক আগ্রহ। এখন তাঁর অনুপস্থিতিতে বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ধরে রাখা নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন মেসি।
২০৮ ম্যাচে ১২৬ গোল, দুটি কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ বিশ্বকাপ জয়,সাফল্যের এই দীর্ঘ তালিকা তাঁকে শুধু দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ই বানায়নি, করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবলের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক মুখও।
মেসির জনপ্রিয়তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বা এএফএর।
২০১৭ সালে জাতীয় দলের সঙ্গে ছিল মাত্র ছয়টি স্পনসর ব্র্যান্ড। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০-এর বেশি, বিভিন্ন প্রতিবেদনে যা প্রায় ১২০ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে এএফএর বার্ষিক রাজস্ব প্রায় ১৫ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা।
এই আয়ের অর্ধেকের বেশি আসে বিজ্ঞাপন ও বিপণন খাত থেকে। মেসি একমাত্র কারণ না হলেও এএফএর বৈশ্বিক ব্র্যান্ড হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে তাঁর জনপ্রিয়তা বড় ভূমিকা রেখেছে।
মেসির বিদায়ের পর তাই টিকিট বিক্রি, জার্সি ও স্মারক বিক্রি, টেলিভিশন দর্শক, ডিজিটাল কনটেন্ট, বিজ্ঞাপন এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের মতো খাতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বিদেশের বাজারে আর্জেন্টিনা ব্র্যান্ডের আকর্ষণ ধরে রাখাই হবে বড় পরীক্ষা।
তবে মেসি-যুগে অর্জিত সাফল্য এএফএকে শক্ত আর্থিক ভিতও দিয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বোনাস বাবদ প্রায় ১২ কোটি ১০ লাখ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা আয় করেছে সংস্থাটি।
এর মধ্যে ২০১৯ কোপা আমেরিকার তৃতীয় স্থান থেকে ৮০ লাখ ডলার, ২০২১ কোপা আমেরিকা জয় থেকে ১ কোটি ডলার, ২০২২ বিশ্বকাপ জয় থেকে ৫ কোটি ২০ লাখ ডলার, ২০২৪ কোপা আমেরিকা থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার এবং ২০২৬ বিশ্বকাপের রানার্সআপ হয়ে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার এসেছে।
সব মিলিয়ে মেসির বিদায় আর্জেন্টিনার জন্য আবেগের পাশাপাশি বড় অর্থনৈতিক পরীক্ষাও।
এখন দেখার বিষয়, বিশ্বজুড়ে গড়ে ওঠা এই বাণিজ্যিক শক্তি মেসিকে ছাড়াই কতটা ধরে রাখতে পারে এএফএ।




