একদিকে লিওনেল মেসির জন্য রাজকীয় বিদায়ের আয়োজন, অন্যদিকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে পর্তুগাল শিবিরে শাস্তির আলোচনা।
জাতীয় দলের হয়ে দুই মহাতারকার প্রতি আচরণে যেন দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। কোচের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে ক্যাম্প ছাড়ার ঘটনায় নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন রোনালদো।
ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেও আপাতত স্বস্তি মিলছে না পর্তুগিজ অধিনায়কের। বিষয়টি নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে চলছে আলোচনা।
জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় বড়সড় শাস্তির মুখে পড়েছেন পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। প্রধান কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার পর ক্যাম্প ত্যাগ করায় তার বিরুদ্ধে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বিরতিতে ম্যাচ খেলার সময় ও মাঠে নামার সুযোগ বণ্টন নিয়ে কোচের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয় রোনালদোর।
সেই বিরোধের জেরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে নিজের আচরণের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে দীর্ঘ বিবৃতি দেন পর্তুগিজ অধিনায়ক।
সেখানে ভুল স্বীকারের পাশাপাশি ক্ষমাও চান তিনি। এমনকি ফুটবল ফেডারেশন শাস্তির সিদ্ধান্ত নিলে তা মেনে নেওয়ার কথাও জানান।
তবে ক্ষমা চাইলেও শাস্তির প্রক্রিয়া থেকে আপাতত রেহাই মিলছে না ৩৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের বিধি অনুযায়ী, জাতীয় দলের ক্যাম্প ত্যাগের ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে। বর্তমানে একটি স্বাধীন কমিটি তার আচরণের বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ এক মাস থেকে ছয় মাস পর্যন্ত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শাস্তির মেয়াদ এক মাসের বেশি হলে আগামী মাসে উয়েফা নেশনস লিগে ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিপক্ষে পর্তুগালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অনুপস্থিত থাকতে পারেন রোনালদো। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তার ক্ষমা প্রার্থনা ও দীর্ঘ ক্যারিয়ারের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।
ক্রীড়ামাধ্যম ইএসপিএনের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, সর্বোচ্চ শাস্তির বদলে তুলনামূলক কম মেয়াদের নিষেধাজ্ঞাও পেতে পারেন তিনি।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির বিদায়কে ঘিরে আবেগ ও সম্মানের আয়োজন ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনায় এসেছে।
দুই তারকার পরিস্থিতি তাই সামনে এনেছে জাতীয় দলের সঙ্গে খেলোয়াড়ের সম্পর্কের ভিন্ন দুটি দিক। তবে রোনালদোর শাস্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলার সুযোগ নেই।




