বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন করে আলোচনায় তরুণ ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সাব্বির। গোলের পর গোল করে নিজের সামর্থ্যের জানান দিচ্ছেন বসুন্ধরা কিংসের এই ফুটবলার।
প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে জালের ঠিকানা খুঁজে নেওয়ার দক্ষতায় তাঁকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে বাড়তি আগ্রহ। সর্বশেষ ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে কিংসের ৭-০ গোলের বড় জয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন সাব্বির। দুই ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা এখন পাঁচ!
আর্লিং হালান্ডের মতো গোলের নেশা, সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষমতা আর বক্সে ভয়ংকর হয়ে ওঠার দক্ষতায় আলাদা করে নজর কাড়ছেন তিনি।
যদিও নরওয়েজীয় তারকা হালান্ডের সঙ্গে তুলনা করার সময় এখনো আসেনি, তবে গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে বাংলাদেশের ফুটবলে নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে তাঁর সামনে।
তিন দিন আগে ফেডারেশন কাপে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে ৫-০ গোলে হারিয়েছিল বসুন্ধরা কিংস।
বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ম্যাচে এবার সেই প্রতিপক্ষকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
বৃষ্টিভেজা মাঠে কিংসের আক্রমণের সামনে কার্যত অসহায় ছিল ওয়ান্ডারার্স। আর এই গোল উৎসবের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখ সাব্বির।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে কিংস। মাত্র ২৪ সেকেন্ডে মনীশ দাঙ্গির গোলে এগিয়ে যায় দলটি।
পঞ্চম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সাব্বির। বিরতির আগে ওয়ান্ডারার্সের গোলরক্ষক জসিম উদ্দিন লাল কার্ড দেখলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে দলটির জন্য।
দ্বিতীয়ার্ধে ৪৯ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন সাব্বির। রবসন রবিনিওর বাড়ানো থ্রু বল ধরে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে দারুণ চিপ শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
এরপর রাকিব হোসেন পেনাল্টি থেকে গোল করেন। আব্দুল্লাহ ও রাকিবের পরের দুই গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৬-০।
যোগ করা সময়ে রাকিবের ক্রস থেকে হেডে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাব্বির।
সব মিলিয়ে লিগের প্রথম দুই ম্যাচেই পাঁচ গোল সাব্বিরের। প্রথম ম্যাচে দুই গোল, পরের ম্যাচে হ্যাটট্রিক।
এমন শুরু নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এই তরুণের। তবে সামনে আরও কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই হবে তাঁর আসল পরীক্ষা।
বাংলাদেশের ফুটবলে নিয়মিত গোল করা স্ট্রাইকারের অভাব দীর্ঘদিনের।
সেই জায়গায় সাব্বির যদি ধারাবাহিকভাবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে জাতীয় দলেও ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা রাখার স্বপ্ন দেখতে পারেন তিনি।
আপাতত তাঁর পায়ের জাদুতে মুগ্ধ বসুন্ধরা কিংসের সমর্থকেরা। তবে খুব শীঘ্রই এই খুশি ছড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সমর্থকদের মধ্যে তেমনটাই প্রত্যাশা সবার।




