ক্রিকেটের হাতেখড়ি ছোটবেলা থেকে নিয়া। বিমানবাহিনীতে স্পোর্টস কোটায় ঢুকলেও ছিলেন মুলত একজন ভলিবল খেলোয়াড়।
সেখান থেকেই রবি পেসার হান্ট দিয়ে আসেন ক্রিকেটে। অন্য সব ক্রিকেটারদের চেয়ে তাই এবাদতের নিজেকে মেইন্টেনের সংগ্রামটা বেশ কঠিনই।
সেই লড়াইটা আরো কঠিন হয়, যখন এসিএল ইঞ্জুরি আঘাত হানে। ১৬ মাস এক ইঞ্জুরির সাথে লড়াই, এরপর সেখান থেকে আবারো ফিরে এসে পেস বোলিং পাইপলাইনের সাথে লড়াই।
এরপর এবাদত ফিরলেন ঠিকই, কিন্ত কোথাও যেন আগের এবাদতকে পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেকেই তাই বলছিলেন বাদ দেওয়া হোক এবাদত হোসেনকে। কিন্ত আড়াল থেকে এখনও এবাদত হোসেনের দলের হয়ে রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা।
ডারউইনের নায়ক হাসান মাহমুদ, তানজিদ তামিম বা মেহেদী মিরাজরা। কিন্ত সেখানেও যে দলের হয়ে ভুমিকা রাখেন ইবাদত হোসেন।
নিজের বাউন্স ও সুইং দিয়ে অষ্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের ভড়কে দেন। এমনকি স্লিপে ক্যাচ দিয়ে তার বলে ফিরে যান মার্নাস লাবুশানে। জুটি গড়ার চেষ্টা করেও তার বলে ফিরতে হয় উইকেটরক্ষক এলেক্স ক্যারিকে, সেটাও বোল্ড হয়ে।
যদিও এমন পারফর্মেঞ্চ করেও বেঞ্চে থাকতে হয় পরের ম্যাচেই। আফগানিস্তানের বিপক্ষেও মিলত না সুযোগ, যদি তাসকিন বা রানারা থাকতেন দলে।
কিন্ত সুযোগ পাওয়ার পর সেটার পুর্ণ ব্যাবহারটাই করলেন এই পেসার। আগের দিন দুই সেট ব্যাটারকে আউট করার পর আজ নিলেন ২ উইকেট। আফগানিস্তানের ইনিংসে হাসান মাহমুদ যতটা আলোচিত, আলোচনায় না থেকেও সমান ইম্প্যাক্ট রেখেছেন এবাদতও।
এবাদত প্রথম উইকেট পান ২০ রান করা শহীদুল্লাহ এর। এবাদতের বলে পুল করতে গিয়ে আউট এই ওপেনার। সেখানে পার্ফেক্ট প্লান সাজিয়েই যেন শহীদুল্লাহকে ফেরান এই সিলেটি পেসার। এক প্রান্ত আগলে রেখে বড় ইনিংস খেলেন আব্দুল মালিক, তবে ৬২ করা আব্দুল মালিককে এবার দারুণ সুইংএ লিটন দাসের ক্যাচ বানান এবাদত।
১৩৯ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ৮০ রানের জুটি আফগানিস্তানের। একটা সময় মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের লিডকেই টপকে যাবে তারা।
তবে আবারো আঘাত এবাদতের। এবার তার হিট দ্যা ডেকে করা সুইংটা সামলাতে ব্যার্থ ব্যাটসম্যান ইকরাম আলী। আর সেখানেই ভাঙে জুটি, এরপর তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ে আফগানিস্তান দল
আফগান ইনিংসের শেষ আঘাত এসেছে ইবাদতের কাছে। আগের ওভারে হাসানকে একের পর এক বাউন্ডারি হাকিয়ে লিড কমানোর চেষ্টা করেছিল রহমত শাহ। তবে ঐ প্রান্তে সুযোগ পেয়ে সেলিমকে ফিরিয়ে আফগানিস্তানের ইনিংসের সমাপ্তি করেন এবাদত হোসেন, তাতে প্রথম ইনিংসে ১০০ এর বেশি লিড পায় বাংলাদেশ দল।
হয়তবা আগের মত পেস বা বাউন্স নেই এবাদতের। তবে তার ধারালো বোলিং এখনও কার্যকর বাংলাদেশ ক্রিকেটে, এখনও তিনি এনে দেন ব্রেকথ্রু। তাই দেশের ক্রিকেটে বর্তমানে আড়ালে থাকা নামই তিনি৷




