২০০০ সালে প্রথম টেষ্ট ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ, টেষ্ট ক্রিকেটে ২৬ বছরে পা রাখে বাংলাদেশ দল।
২৬ বছরে বাংলাদেশ ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক পেসার মাশরাফি মর্তুজা, অর্জন করেন ৭৮ উইকেট।
দেশের টেষ্ট ক্রিকেটে পেসারদের অবস্থা বুঝা যায় এই পরিসংখ্যানেই। তবে ব্যাতিক্রম যেন হাসান মাহমুদ। জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয়েছে আড়াই বছর, ইঞ্জুরি ছাড়া টেষ্টে এভেইলেবল ছিলেন ১৮ মাস।
এই ১৮ মাসেই টাইগার ক্রিকেটের পেস বোলারদের মাঝে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক এই হাসান মাহমুদ।
১৮ মাসে ১৭ নাম্বার টেষ্ট খেলছেন হাসান মাহমুদ। এই ১৭ ম্যাচেই হাসানের ঝুলিতে আছে ৫০ উইকেট।
বাংলাদেশের ইতিহাসে পেসারদের মাঝে আর কেউ এত তাড়াতাড়ি নিতে পারেনি ৫০ উইকেট। ১৭ টেষ্টের ক্যারিয়ারে পেয়েছেন ৪ বার ফাইভার, সেটাও চার আলাদা প্রতিপক্ষের সাথে। মজার ব্যাপার হলো হাসানের চারটা ফাইভার এসেছে চারটা আলাদা দেশেই।
সর্বশেষ সিরিজে ডারউইনে অষ্ট্রেলিয়ার মাঠে তাদের বিপক্ষেই নেন ৫ উইকেট। সেবার হেড, কামিন্স, স্মিথরা পরাস্ত হন এই হাসানের কাছেই। পরের সিরিজেই আবারো ফাইভার হাসানের। এবার ভেঙে দিলেন আফগানিস্তানের দুর্গ।
অথচ ম্যাচে বেশ ভালোভাবেই ছিল আফগানিস্তান। শুরুতে নিজেদের রিভিউ গন্ডগোলে উইকেট পাওয়া হয়নি, তবে ১৭ করা সেই সাদেকুল্লাহ আতালকে নিজেই ফিরিয়েছেন।
তবে আফগানিস্তানের ইনিংসের মেরুদন্ড হাসান ভেঙেছেন দলীয় ৮৩ তম ওভারে। ওভারের তৃতীয় বলে ফেরান নাম্বার ছয়ে নামা ইসমাত আলামকে। হাসানের বলের উত্তর ছিল না ইসমাতের, হয়ে যান বোল্ড।
পরের বলে নেমেই আউট কায়েস আহমেদ। এবার হাসানের ইনসুইংএ এজ লাগান তিনি, পিছনে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস।
আর সেখানেই তৈরি হয় হ্যাট্রিকের সুযোগ। সেই হ্যাট্রিকের বল ফেস করেন জিয়াউর রহমান। সেখানে বল তার ব্যাট মিস করে লাগে পায়ে।
বড় আবেদন করলেও সারা দেননি আম্পায়ার, তবে এবার রিভিউতে ভুল করেননি শান্ত, তাতে রেকর্ডের পাতায়ও আসে হাসানের নাম।
সবকিছু মিলিয়ে হাসান ইতিহাস লেখছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটে। পেস বোলিংএ সাম্প্রতিক সময়ে বিপ্লব করেছে বাংলাদেশ।
তবে লাল বলে বাংলাদেশের ব্রান্ডিং আসছে হাসানের হাত ধরেই। যেভাবে একের পর এক ফাইভার তুলে নিচ্ছেন, দেশের পেসার ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়া সময়ের ব্যাপার হাসানের জন্য। এরকম ধারাবাহিকতা থাকলে বিশ্বমানের হয়েও শেষ করতে পারবেন হাসান মাহমুদ।




