১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফুটবল হিস্ট্রি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস বা আইএফএফএইচএস ফুটবলের ইতিহাস, পরিসংখ্যান ও রেকর্ড নিয়ে কাজ করা একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা।
বিভিন্ন সময়ে ফুটবলার, ক্লাব ও জাতীয় দলের পারফরম্যান্স নিয়ে র্যাঙ্কিং প্রকাশ করে ফুটবল অঙ্গনে বেশ আলোচিত সংস্থাটি।
এবার আইএফএফএইচএস থেকে দেওয়া হলো সর্বকালের সেরাদের তালিকায়। যে তালিকায় রাজত্ব আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের।
তালিকার দশম স্থানে আছেন ব্রাজিলের জাদুকর রোনালদিনহো। দুই পায়ের জাদুতে বিশ্ববাসীকে মুগ্ধ করেছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
ক্লাব ক্যারিয়ারে বার্সেলোনা, এসি মিলান ও পিএসজির মতো দলে খেলেছেন তিনি। ব্রাজিলের হয়ে ৯৭ ম্যাচে ৩৩ গোল করেছেন।
২০০২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন এই তারকা। ২০০৫ সালে জিতেছিলেন ব্যালন ডি’অর। তালিকায় তার আগে নয় নাম্বারে আছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি আলফ্রেডো দি স্টিফানো।
৩ দেশের হয়ে খেললেও স্টেফানোকে আর্জেন্টাইন বলেই স্বীকৃতি ইতালির ডাটা সংস্থার। হয়ে ২৮২ ম্যাচে ২১৬ গোল করেছিলেন তিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে ৬ ম্যাচ খেলে ৬ গোল এই স্টিফানোর ক্যারিয়ারে।
আট নম্বরে জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে তিনটি ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছেন তিনি।
জার্মানির হয়ে ১০৩ ম্যাচে ১৪ গোল করেন। ১৯৭৪ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক বেকেনবাওয়ার ডিফেন্ডার হয়েও দলের আক্রমণ গড়ে তোলার জন্য বিখ্যাত ছিলেন, জিতেছেন ব্যালন ডিঅরও। তালিকার
সাত নম্বরে ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান। জুভেন্টাস ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স ফুটবল ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে।
ফ্রান্সের হয়ে ১০৮ ম্যাচে ৩১ গোল করেছেন। ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ফাইনালে জোড়া গোল করে দেশকে শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি ২০০৬ বিশ্বকাপেও দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন জিজু খ্যাত জিদান।
ছয় নম্বরে ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও। বার্সেলোনা, ইন্টার মিলান ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলেছেন এই স্ট্রাইকার। ব্রাজিলের হয়ে ৯৮ ম্যাচে ৬২ গোল করেন।
১৯৯৪ ও ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন আর নাইন। ২০০২ বিশ্বকাপে আট গোল করে গোল্ডেন বুট জেতে থাকেন দলের সেরা পারফর্মার হয়ে
পাচ নাম্বারে আছেন ডাচ ইয়োহান ক্রুইফ। খেলোয়াড় ও কোচ দুই ভূমিকাতেই ফুটবলে গভীর প্রভাব রেখেছেন তিনি। নেদারল্যান্ডসের হয়ে ৪৮ ম্যাচে ৩৩ গোল করেন। ১৯৭৪ বিশ্বকাপে তাঁর নেতৃত্বে ফাইনালে ওঠে ডাচরা।
তালিকার চারে মেসির রাইভাল খ্যাত ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসের মতো ক্লাবে খেলেছেন তিনি।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪৫০ গোল এবং পর্তুগালের হয়ে ১৪০-এর বেশি আন্তর্জাতিক গোল তাঁকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতায় পরিণত করেছে। পাঁচটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, ন্যাশনস ও ইউরো শিরোপা তাকে রেখেছে সেরাদের কাতারেই।
আর্জেন্টাইন ফুটবল ইশ্বর ডিয়োগা ম্যারাডোনা আছেন তিন নাম্বারে। নাপোলির হয়ে ১১৫ গোল করে ক্লাবটিকে দুটি ইতালিয়ান লিগ শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন।
আর্জেন্টিনার হয়ে ৯১ ম্যাচে ৩৪ গোল করেন। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে তাঁর নেতৃত্ব ও অসাধারণ নৈপুণ্য তাঁকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা হিসেবে পরিণত করেছে, যার স্বীকৃতি এসেছে এইএফএফএইচএস থেকেও।
দুই নম্বরে আছেন ব্রাজিলের পেলে। সান্তোসের হয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য গোল ও শিরোপা জিতেছেন তিনি।
ব্রাজিলের হয়ে ৯২ ম্যাচে ৭৭ গোল করেন এবং ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ সালে তিনটি বিশ্বকাপ জেতেন পেলে, যা কোন খেলোয়াড় হিসেবে সর্বোচ্চ। এই তালিকায় পেলেকে দ্বিতীয় সেরা হিসেবেই স্বীকৃতি ইতালির সংস্থার।
সবার উপরে থাকা বার্সেলোনার হয়ে ৭৭৮ ম্যাচে ৬৭২ গোল করেছেন তিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০২২ বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা এবং আটটি ব্যালন ডি’অর তাঁর ক্যারিয়ারের বড় অর্জন।
পিএসজি ও ইন্টার মায়ামিতেও খেলেছেন এই ফরোয়ার্ড। ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, ধারাবাহিকতা, শিরোপা ও দলের সাফল্য বিবেচনায় মেসিকে ইতিহাসের সেরা হিসেবে বেছে নিয়েছে আইএফএফএইচএস
সব মিলিয়ে তালিকার সেরা দশে আছে আর্জেন্টাইনদের দাপট। আর সেরার চেয়ারটা দখল করা আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসিরই।




