পৃথিবীর ধনী ক্রিকেট বোর্ডের একটি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। টাকা আয়ের উৎসের কমতি নেই বিসিবির, নেই কমতি দর্শক জনপ্রিয়তার।
কিন্ত সেই অর্থে নেই খেলোয়াড়দের পারফর্মেঞ্চ, জবাবহিদিতাও দায়সারা। সাম্প্রতিক সময়ে খেলোয়াড়দের জন্য বেড়েছে অর্থ, তবে পারফর্মেঞ্চে যেন আগের চেয়ে করুন বাংলাদেশ ক্রিকেট।
সর্বশেষ ত্রিদেশীয় সিরিজেই থাকে তার প্রমাণ। এই সিরিজে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই ভেবেছিলেন অনেক ক্রিকেট ভক্ত।
অনেকে একে মনে করেছিলেন অপ্রয়োজনীয়। অথচ এমন এক ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন দূরে থাক, একটা ম্যাচ জিততে পারেনি বাংলাদেশ।
আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের সাথে এমনভাবে হেরেছে বাংলাদেশ, সেটাও বেশ লজ্জাজনক দেশের ক্রিকেটে।
ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামলেও এই দুই দলের সাথে প্রতিরোধ গড়তে পারেনি বাংলাদেশ দল।
অথচ সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেটারদের কল্যাণেই নানা উদ্যেগ নেয় বিসিবি। ঘরোয়া পর্যায় থেকে জাতীয় দল, বিভিন্ন স্তরে বাড়ানো হয় খেলোয়াড়দের বেতন।
কিছু জায়গায় তো বেতন ভাতা করা হয় দ্বিগুণের মত। বেতন ছাড়াও জাতীয় দল কেন্দ্রিক বাড়ানো হয় অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও। অথচ সেটাকে কোনমতেই কাজে লাগাতে পারছেনা বাংলাদেশ দল।
এর আগে একের পর এক সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ তোলে বাংলাদেশ। কিন্ত একটা সময় যাদেরকে বলে কয়ে হারাতো বাংলাদেশ, সেই জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানই পাত্তা দিচ্ছেনা বাংলাদেশ দলকে।
ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ বাদে হচ্ছে ফাইনাল। একের পর এক সুযোগ সুবিধা পেয়েও এমন কিছু তো দেশের ক্রিকেটের জন্যই লজ্জাজনক।
আর সেই কারণেই জবাবদিহিতা আওতায় আনা উচিত ক্রিকেটারদের। ভালো করলে বেতন বাড়ানো বা পুরষ্কারে নেই সমস্যা।
কিন্ত দল খারাপ করলে এই খেলোয়াড়দের শাস্তির আওতায় আনা উচিত। সেক্ষেত্রে বেতন কর্তন সহ অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে খেলোয়াড়দের রাখা উচিত কঠোর আইনের মাঝে।
এই মুহুর্তে বাংলাদেশের ব্যাটিং মান যাচ্ছেতাই। অনেকেই বলেন আন্তজার্তিক ক্রিকেটের মান ও নিজেদের উইকেটের গুরুত্বই বুঝেননা সৌম্য, হৃদয়রা।
আর সেখানেই তাদেরকে যদি কঠিন আইনের মাঝে আনা যায়, তবেই তারা বুঝবেন সুযোগ পাওয়ার কত গুরুত্ব।
তখনই কাজে লাগানোর তারা থাকবে এই ক্রিকেটারদের। নতুবা এত সুযোগ ও বেতন পেয়েও যখন এমন পারফর্মেঞ্চ আসে ক্রিকেটারদের থেকে, সেটা দেশের ক্রিকেটেরই এক বেদনানায়ক বিষয়ই বটে।




