জাতীয় দলে সাকিব আল হাসানকে ফেরানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বোর্ডের ভেতরে-বাইরে এ নিয়ে আলোচনা চলছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন উঠেছিল, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরতে পারেন সাকিব।
এমনটা হলে পাকিস্তানের বিপক্ষে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে সিরিজে তার খেলার সম্ভাবনাও তৈরি হতো। তবে চলতি মাসে তার দেশে ফেরার বিষয়টি আপাতত নিশ্চিত নয়।
তবে প্রক্রিয়া থেমে নেই। বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর এক টক শো-তে জানিয়েছেন, সাকিবের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরেও তাদের কথা হয়েছে। সাকিব নিজেও জাতীয় দলে খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানান তিনি। বোর্ড পরিচালকদের সম্মতিক্রমেই তাকে দলে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাকিবের বিরুদ্ধে থাকা পুরোনো মামলা ও অন্যান্য আইনি জটিলতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান আসিফ আকবর।
তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সাকিবের আইনজীবী বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। খুব দ্রুত,সম্ভবত রোববার বা সোমবারের মধ্যে মামলার নথিপত্র সরকারের কাছে পাঠানো হবে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে ফাইলগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে আশা করছেন বোর্ড কর্তারা।
একই অনুষ্ঠানে বিসিবির সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ বলেন, সাকিবের ক্রিকেটীয় সামর্থ্য নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই।
বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে তিনি এখনও খেলছেন এবং বেশ কিছু ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্সও করেছেন। ফিটনেস সন্তোষজনক থাকলে তিনি এখনো দলের জন্য বড় সম্পদ, তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড।
এদিকে আসিফ আকবর বলেছেন,’যেহেতু সাকিব দেশে একটি পূর্নাঙ্গ সিরিজ খেলতে চান সেক্ষেত্রে সেটি যদি পাকিস্তান সিরিজ হয় তাহলে দায়মুক্ত হতে পারি আমরা।’
এর আগে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক দায়িত্ব নেওয়ার পর জানিয়েছিলেন, সাকিব ও মাশরাফি বিন মুর্তজার বিষয়টি রাষ্ট্রীয়ভাবে বিবেচনা করা হবে।
তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে জাতীয় দলে ফেরানোর ব্যাপারে সরকার ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এখন দেখার বিষয়, সরকারের কাছে ফাইল যাওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া কত দ্রুত এগোয় এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে সাকিবকে আদৌ মাঠে দেখা যায় কি না।




