পরিসংখ্যান সবসময় সত্য কথা বলেনা। নেইমার জুনিয়ারের ক্ষেত্রেই তার বাস্তব উদাহরণ দেখা যায়।
তার প্রোফাইলের, ক্লাব ও জাতীয় দলের পরিসংখ্যানের খেলোয়াড়দের সাথে যদি তার তুলনা দেওয়া হয়, দেখা যাবে তাদের চেয়ে অনেক জনপ্রিয় নেইমার জুনিয়ার। অনেকক্ষেত্রে নেইমারের তুলনা আসে শুধু সর্বকালের সেরাদের সাথেই। কিন্ত নেইমার বিশ্বে একজনই।
সেখানে ৩ টি গুণ নেইমারকে করে ফেলে আলাদা।
এর পিছনে প্রথম কারণ থাকতে পারে নেইমারের খেলার সৌন্দর্য ও মাঠের সৃজনশীলতা। নেইমারের পায়ে বল মানেই জাদু।
ব্রাজিলিয়ান সাম্বা ফুটবলের ঐতিহ্য যেন তাঁর শরীরী ভাষায় মিশে আছে। ছোট জায়গায় বল নিয়ন্ত্রণ, হঠাৎ গতি বদল, রেইনবো ফ্লিক বা নো-লুক পাস, সব মিলিয়ে তিনি এক অনন্য বিনোদন।
আধুনিক ফুটবলে যেখানে কৌশল ও ফিটনেসকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, সেখানে নেইমার এখনো শিল্পের ছোঁয়া ধরে রেখেছেন। যে কারণে একদিকে ভক্তরা বসে থাকে সুন্দর ফুটবল দেখতে।
আবার অনেক তরুণ ফূটবলাররাও এই স্কিলের মোহে পড়েছেন, নিজেদেরকে নেইমির অনুসারী হিসেবে গড়ে তোলেছেন।
নেইমারের আরেকটি বড় গুণ তার বহুগামীতা।
নেইমার কেবল একজন উইঙ্গার নন। তিনি বাম প্রান্ত, ডান প্রান্ত, ফালস নাইন, এমনকি অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবেও খেলতে পারেন।
সান্তোসে থাকাকালীন তরুণ নেইমার বড় চাপ সামলেছেন। আবার বার্সেলোনায় থাকাকালে তিনি এমএসএন ত্রয়ীর অংশ হয়ে গোলদাতার ভূমিকায় ছিলেন।
এরপর আবার পিএসজিতে এসে অনেক সময় প্লেমেকারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন, তখন বনে গেছেন দলের সবচেয়ে বড় সুপারস্টারে। অপরদিকে ভঙ্গুর ব্রাজিল দলে দায়িত্ব নিয়েও নেইমার দলকে টেনে নিয়ে গেছেন বহুদিন। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের ভূমিকা বদলাতে পারা, এটি আধুনিক ফুটবলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এই জায়গায় নেইমি ছাড়িয়ে গেছেন বাকি সবাইকে।
নেইমারের ক্যারিয়ার ছিল চোট, সমালোচনা ও বিতর্কে ভরা। তবু বারবার তিনি ফিরে এসেছেন। বড় ইনজুরির পর মাঠে নেমে গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছেন, সমালোচকদের জবাব দিয়েছেন পারফরম্যান্স দিয়ে।
মানসিক দৃঢ়তা ছাড়া এটি সম্ভব নয়। অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় চাপের মুখে হারিয়ে যান। এর সাথে আবার এত ইঞ্জুরিতে খেলা ছেড়ে দেন অনেকে। কিন্তু নেইমার প্রতিবারই প্রমাণ করেছেন,তিনি লড়াই করতে জানেন।
বিশেষ করে একের পর এক ইঞ্জুরির পরও নেইমারের পারফর্মেঞ্চের পড়তি হয়না একটুও।
সব মিলিয়ে এই ৩ গুণ নেইমারকে এগিয়ে রাখে অন্য অনেকের চেয়ে। যে কারণে নেইমার অনন্য, নেইমারকে দেখতে মুখিয়ে থাকে সারাবিশ্বের ফুটবল ভক্তরা।




