আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর থেকে জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যায়নি দেশের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডারকে। বয়সও এখন ৩৯।
তাই সাকিবের বিকল্প হিসেবে নতুন একজন বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার খুঁজছেন বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ।
২০২৪ সালে কানপুরে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচটিই ছিল সাকিবের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
দীর্ঘ ১৮ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৪৪৭ ম্যাচ খেলে ব্যাট হাতে ১৪ হাজারের বেশি রান এবং বল হাতে ৭১২ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এমন অলরাউন্ডারের অভাব যে বাংলাদেশ দলে অনুভূত হচ্ছে, সেটি বুঝতে পারছেন মুশতাকও।
মিরপুরের ইনডোরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সাকিবের মতো একজন ক্রিকেটার তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের এই স্পিন কোচ। তিনি বলেন, ‘আমরা তৈরি করছি সাকিবের মতো অলরাউন্ডার। এটা নিয়ে ভাবছি।’
সাকিবের বিশেষত্ব ছিল বাঁহাতি স্পিনের পাশাপাশি ব্যাট হাতে দলের প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতা।
বাংলাদেশে তাইজুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ ও তানভীর ইসলামের মতো বাঁহাতি স্পিনার থাকলেও ব্যাটিংয়ে তাঁদের অবদান সাকিবের পর্যায়ের নয়। অতীতে মোহাম্মদ রফিক ও আব্দুর রাজ্জাকের মতো বাঁহাতি স্পিনাররাও ছিলেন বাংলাদেশের বড় ভরসা।
তবে সাকিবের মতো একজন অলরাউন্ডার তৈরি করা যে সহজ নয়, সেটিও স্বীকার করেছেন মুশতাক।
তাঁর ভাষায়, ‘এমন বাঁহাতি স্পিনার খুঁজছি যে ব্যাটিংও করতে পারবে। হুট করে একটা বৃক্ষ তো গড়ে তুলতে পারবেন না। এখন একজন বাঁহাতি স্পিনার দরকার যে ব্যাটিংও করতে পারে। আশা করি দ্রুত খুঁজে পাব।’
বাংলাদেশের বর্তমান স্পিন আক্রমণ নিয়েও সন্তুষ্ট মুশতাক। টেস্টে তাইজুল ও মেহেদী হাসান মিরাজ নিয়মিত কার্যকর ভূমিকা রাখছেন।
সাদা বলের ক্রিকেটে রিশাদ হোসেন, নাসুম ও তানভীররাও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন।
বিশেষ করে লেগস্পিনার রিশাদ গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের সাদা বলের ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন।
২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৪ উইকেট নিয়ে এক আসরে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের ক্ষেত্রে সাকিবের ১১ উইকেটের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যান তিনি।
পাশাপাশি পেস আক্রমণেও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী মুশতাক। নাহিদ রানার গতি ও কার্যকারিতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন রানা আছে। সে ঘণ্টায় দেড়শ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বোলিং করতে পারে।’
বর্তমান স্পিনারদের প্রশংসা করে মুশতাক আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাঝের ওভারে উইকেট আনতে ভালো স্পিনার লাগবেই।
তাইজুল আছে, মিরাজ আছে, সাদা বলে রিশাদ, নাসুম, তানভীররা সবাই ভালো করছে। এ কারণেই আমরা এখন অনেক সিরিজ জিততে পারছি।’
সাকিবের মতো একজন ক্রিকেটারকে রাতারাতি তৈরি করা সম্ভব নয়। তবে তাঁর অভাব পূরণে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সেই সক্ষমতা খুঁজে বের করার কাজ যে শুরু হয়েছে, মুশতাকের কথাতেই মিলছে তার ইঙ্গিত।




