টি২০ ক্যারিয়ারে ১০৮তম ম্যাচে এসে প্রথম উইকেট স্বীকার নাজিবুল্লাহ জাদরানের। জাতীয় দল নিয়ে না আসলেও আফগানিস্তানের বোলিং আক্রমণে এদিন দিশেহারা জাপান দল, করতে পারে মাত্র ৮১ রান।
প্রতিপক্ষের ১০ উইকেটের ৮ টাই তুলে নেন আফগান স্পিনাররা। এর আগে অবশ্য আফগানিস্তানও যে সুবিধা করতে পেরেছে, ব্যাপারটা এমন নয় মোটেও। জাপানের স্পিন আক্রমণের সামনে তারা তুলতে পারে মাত্র ১২৯ রান।
এশিয়ান গেমসের দ্বিতীয় ম্যাচেও দেখা গেছে একই ছাপ।
হংকংকে এবার হারিয়ে দিয়েছে মালেশিয়া দল, যেখানে ২০ অভার পুরো ব্যাটিং করেও মাত্র ৮১ রান তোলে হংকং দল। ভিরানদ্বীপ, পাভানদ্বীপ ও আমিরের স্পিন আক্রমণেই মালেশিয়া পায় ৭ উইকেট।
এর আগে ভারত ও জাপান ম্যাচটাও মনে আছে সবার। ৫ অভার খেলে মাত্র ৩২ রান তোলে ভারতীয় দল, যেটাই অবশ্য উইনিং স্কোর হয়ে যায় তাদের জন্য। তবে এর মাঝেও ৪ উইকেট হারায় তারা, জাপানও ভারতের স্পিনের কাছে হয় পরাস্ত। অর্থ্যাৎ দিন যত যাচ্ছে একটা বিষয় পরিষ্কার, এশিয়ান গেমসে ট্রাম্প কার্ড হবেন স্পিনাররা।
শেষদিকে এসে বাংলাদেশও অনুধাবণ করতে পারে একইবিষয়। যে কারণে ইঞ্জুরিতে পড়া পেসার মোহম্মদ সাইফুদ্দিনের জায়গায় নেওয়া হয় স্পিনার আলিস আল ইসলামকে।
বর্তমানে স্কোয়াডে স্পেশালিস্ট স্পিনার চারজন, অলরাউন্ডার মিলিয়ে সংখ্যাটা বাড়বে আরো। আর পেসার মাত্র ৩ জন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পেস বিপ্লব করা বাংলাদেশ দল এবার কন্ডিশন কাজে লাগাতে চাইবে স্পিন দিয়েই। তাই ফর্মে থাকা ৩ পেসার থেকেও বাদ পড়বেন একজন।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের স্কোয়াডে পেসার হিসেবে আছেন ফিজ, শরীফুল ও হাসান মাহমুদ। যেকোন পিচেই ফিজ বাংলাদেশের সেরা অপশন।
আর স্লো টার্নিং উইকেটে ফিজ তো যেকোন দলের জন্যই অটো চয়েস একজন বোলার। ফিজের সাথে এই লড়াইয়ে এগিয়ে শরীফুল ইসলাম।
যদিও কাউন্টি ও অষ্ট্রেলিয়া কাপিয়ে এসেছেন হাসান। তবে স্লো কন্ডিশনের চেয়ে পেস সাহায্য করা কন্ডিশনে কার্যকর বেশি হাসান। আর যে কারণেই ফিজের সাথে শরীফুলকেই বেছে নেবে বাংলাদেশ দল।
এর সাথে যুক্ত হবেন ৩ স্পিনার। আলিস আল ইসলামের সম্ভাবনা রয়েছে দলের হয়ে অভিষেক করার। যদি আলিস একাদশে আসেন, হয়তবা শেখ মেহেদী ছিটকে যাবেন একাদশ থেকে।
কেননা আলিসও পাওয়ারপ্লেতে বল করেন, তুলে নিতে পারেন ব্রেকথ্রু। আবার মিডল অভারে রিশাদ হোসেনের স্পিনই বাংলাদেশের ভরসার নাম। এর সাথে এশিয়ান গেমসে যেভাবে বাহাতি স্পিনাররা ঝলক দেখাচ্ছেন, নাসুম থাকবেন অবধারিতভাবে।
তবে অভিজ্ঞতার কারণে আলিসের বদলে শেখ মাহেদীও আসতে পারেন দলে। অপরদিকে জায়গা অনেকটা নিশ্চিত রিশাদ ও নাসুমের।
এবার দেখা যাক, চুড়ান্ত ম্যাচে কাদের নামায় টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে পেস আক্রমণের চেয়ে যে এবার প্রাধান্য পাবে বাংলাদেশের স্পিন, তাতে নেই সন্দেহ।




