অনেকে ভেবেছিলেন ২০২২ সালেই নিবেন বিদায়। পুরো বিশ্বকাপে এক পেনাল্টি গোল, রাইভালের হাতে বিশ্বকাপ আর দলে প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়া, সব মিলিয়ে রোনালদো দেখছিলেন নিজের শেষ সময়।
তবে অবসর নেওয়ার কোন ইঙ্গিতই দেননি এই খেলোয়াড়। ৪ বছর সৌদি লীগে খেলে গোল করেছেন, তবে বড় মঞ্চে আসলেই থেকেছেন ভুত হয়ে। অবস্থা এখন এমন, নিজের প্রিয় কোচও বেঞ্চ করে রাখে তাকে।
আল নাসেরে হয়ে জর্জ জেসুসের অধীনে খেলেছেন, জিতেছেন লীগ। নিজের প্রয়োজনে সেই জেসুসকে এনেছেন পর্তুগাল দলে।
তবে পর্তুগালে এসে দলের প্রয়োজনে রোনালদোকেও বেঞ্চে বসিয়ে দেন জেসুস, এমনকি নামাননি এক মিনিটও। তাতে সফলতাও মেলে বেশ বড় আকারে।
এর আগে বিশ্বকাপে প্রতি ম্যাচে শুরুর একাদশে থাকলেও রোনালদোর ইম্প্যাক্ট ছিলনা বললেই চলে। ৩ গোলের ২ টি করেছেন উজবেকিস্তানের মত দুর্বল দলের সাথে, আরেকটি এসেছে পেনাল্টিতে। আরো একবার সেমির আগেই বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল দলও। তবুও রোনালদো দেননি বিদায়ের ইঙ্গিত। উলটো ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে কোচের সাথে অসন্তোষ করাই যেন তার কাজ।
বিপরীতে নীরবে নিজের কাজটা করে যাচ্ছেন মেসি। ৩৮ বয়সে এসেও ব্যালনের চুড়ান্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন, থাকবেন সেরাদের তালিকায়ও। এখনও বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল এসিস্ট করেন। একা হাতে আর্জেন্টিনা দলকে নিয়ে যান ফাইনালে।
ক্লাবে তো মেসি বরাবরই সেরা পারফর্মেঞ্চ করেন। জাতীয় দলেও সাম্প্রতিক সময়ে মেসির পারফর্মেঞ্চ তাকে করেছে অপ্রতিরোধ্য। গত দুই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে রুপকথা রচনা করেছেন, নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।
জাতীয় দলে এখনও মেসির নেই বিকল্প, এমনকি বড় মঞ্চে মেসিই আর্জেন্টিনার সেরা তারকা। কিন্ত লিওনেল মেসি সেখানে নিজেকে টেনে নিয়ে যেতে চাননি। বরং নতুনদের সুযোগ দিতে পারফর্ম করা অবস্থায়ই নিজেকে নিয়েছেন সরিয়ে।
২০২৬ বিশ্বকাপের পর তাই মেসি বলে দিয়েছেন বিদায়ের কথা, অবসরের কথা জানান এই বিশ্বকাপ শেষেই। বারবার আর্জেন্টিনা বোর্ড অনুরোধ করলেও সিদ্ধান্তে ছিলেন অটল। তাই এবার রাজকীয়ভাবে ম্যাচ আয়োজন করেই মেসিকে বিদায় দিচ্ছে আর্জেন্টিনা দল।
মেসির বিদায় আর্জেন্টাইনদের কাছে আক্ষেপের থাকবে, অন্যদের কাছেও থাকবে সম্মানের। শেষবেলায়ও নিজের লিগ্যাসির চুড়ান্ত পর্যায়ে এসে ও পারফর্মেঞ্চের ধারা বজায় রেখেই বিদায় নিচ্ছেন মেসি, রাখছেন শুন্যস্থান।
বিপরীতে অনেক আগে সময় হলেও জোড় করেই খেলা চালাচ্ছেন রোনালদো, শেষবেলায় যেন আরো কমাচ্ছেন নিজের সম্মান। উলটো দলীয় কোন্দল করে পর্তুগালের সেরা সময়টাকেও করছেন বিনষ্ট। শেষবেলায় এসেই যেন তাই বড় পার্থক্য হয়ে যাচ্ছে সময়ের দুই সেরা খেলোয়াড়ের মাঝেই।




