ফুটবলের আতুরঘর খ্যাত ব্রাজিল দল। আর এশিয়ান ফুটবলের ব্রাজিল বলা হয় জাপান দলকে।
এবার মুখোমুখি লড়াইয়ে মাঠে নামছে এই দুই দল। বিশ্বকাপের পর নতুন দুই লক্ষ্য নিয়ে আবারো মুখোমুখি লড়াইয়ে দেখা যাবে এই দুই দেশকে।
২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ১৬ তে বিদায় নেয় ব্রাজিল দল। এরপর ২০৩০ বিশ্বকাপের পরিকল্পনা সাজায় ব্রাজিল দল।
সেখানেই একাধিক তরুণদের নিয়ে দল সাজান কার্লো আনচেলত্তি, অষ্ট্রেলিয়া ও ভারত ম্যাচে অভিষেক করান একাধিক খেলোয়াড়কে। অবশ্য তাতেও ফল পক্ষেই এসেছে ব্রাজিল দলের। ৩ ম্যাচের ২ টিতেই জয় পায় তারা, করে মোট ৯ গোল। শেষ ২ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ৮ গোলে দিয়ে ফেরার জানান দেয় সেলেসাওরা।
তবে এবার সেলেসাওদের সামনে চ্যালেঞ্জটা বেশ বড়। কেননা এবার জাপানের মত দলের বিপক্ষে খেলবে ব্রাজিল দল।
এশিয়ার পাওয়ার হাউজ হিসেবে খ্যাত জাপান দল। বর্তমানে ফিফা র্যাংকিংএ ১৭ নাম্বারে আছে তারা। দলটির বেশ অনেক খেলোয়াড় খেলে থাকেন ইউরোপের বড় বড় লীগে।
সুজুকি, ইতো, কামাডা, কুবো, নাকামুরা, ডোয়ান সহ দলটিতে তারকার অভাব নেই। নিজেদের খেলার স্টাইলেও জাপান অনন্য।
তবে জাপানের দুশ্চিন্তার কারণ এই ব্রাজিলই হতে পারে। গত বিশ্বকাপে ডার্ক হর্স হিসেবে যায় জাপান দল। এমনকি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে কোন ম্যাচ হারেনি তারা। তবে ব্রাজিলের বিপক্ষে বিশ্বকাপে হেরে বিদায় নিতে হয় জাপানিজদের।
বিশ্বকাপের আগে টানা ৬ ম্যাচ জয় করে জাপান দল। তবে ব্রাজিলের বিপক্ষে হেড টু হেডে ৭ দেখায় মাত্র ১ জয় জাপানের। তাই জাপানের জন্য ব্রাজিল দুশ্চিন্তার প্রতিপক্ষেরই নাম
বিপরীতে জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়ের রেকর্ড ভালো হলেও চিন্তামুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই মোটেই।
এই জাপানের বিপক্ষেই গত বছর ২ গোলের লিডে থেকে হেরেছিল ব্রাজিল। এমনকি বিশ্বকাপেও ব্রাজিল জয় পায় শেষ মুহুর্তের গোলে, যেখানে জাপানের ডিফেন্স চেপে ধরে তাদেরকে। সাম্প্রতিক সময়ে তাই জাপানের সাথে কঠিন লড়াই হতে তাদের।
এছাড়া বিশ্বকাপের দলের অনেকেই আছেন জাপানের বর্তমান দলে, তাদের চলছে সোনালী প্রজন্ম।
বিপরীতে নতুন প্রজন্মের দল গড়তে যাচ্ছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপের অনেক খেলোয়াড় যেমন নেই, আবার অনেককে নতুন করে অভিষেক করিয়ে কার্লো করছেন পরীক্ষা নিরীক্ষা।
অন্যদিকে শেষ উইন্ডোও দুর্দান্ত কাটিয়েছে জাপান। ৪ ম্যাচের ৪ টিই জয় করে জাপান দল। এর মাঝে ৩ ম্যাচে তাদের বিপক্ষে খেলেছে ব্রাজিলের মহাদেশ লাতিন আমেরিকান প্রতিপক্ষ।
বিশেষ করে উড়ুগুয়ের মত দলকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ভালো আত্মবিশ্বাস পাবে জাপান দলকে। এমন উড়তে থাকা প্রজন্মকে হারানো বেশ কঠিনই হবে সেলেসাওদের।
মুখোমুখি লড়াইয়ে আগামী ১৪ নভেম্বর দেখা যেতে পারে দুই দলকে। সিঙ্গাপুর হতে পারে এই ম্যাচ। এবার দেখা যাক, এই লড়াইয়ে কে হাসে শেষ হাসি?




