মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে একটি অভিযোগ প্রায়ই শোনা যেত। যেকোন সিদ্ধান্তেই নাকি রিভিউ নিতে চাইতেন এই খেলোয়াড়।
সেখানে দলকে এমনভাবেই প্রলুদ্ধ করতেন, তাতে টেকনিক্যালি ভাবার সুযোগ পেতো না পুরো দল। তবে কথায় আছে সঙ্গ দোষেই যেন লোহা ভাসে।
মিরাজ এবার ভুল না করলেও ভুল করেছে পুরো বাংলাদেশ। আর সেখানে প্রথম ইনিংসে আফসোস থাকলো বাংলাদেশের।
ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের শুরুর সেশনে ৩৪৬ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। জবাব দিতে নেমে শুরুতে আঘাত হানার সুযোগ পায় বাংলাদেশ দল।
ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতালের নিশ্চিত আউটেও নিরব ছিল বাংলাদেশ। উলটো অদ্ভত এক রিভিউ নিয়ে শুরুতেই হারায় আত্মবিশ্বাস।
ম্যাচের শুরুতে হাসানের বল ডিফেন্স করতে চান আতাল। তবে সেটা তার পায়ের পাশ ঘেষে চলে যায় উইকেটরক্ষকের কাছে।
এমন বলে সন্দেহ হয় অধিনায়ক শান্তের, রিভিউ নেন তিনি। তবে রিপ্লেতে দেখা যায় বল ব্যাট দূরে থাক, পায়েও স্পর্শ করেনি।
বরং সেটা চলে যায় পায়ের পাশ থেকেও। ফলে উইকেট তো পায়ই না বাংলাদেশ, উলটো হারায় রিভিউ।
কিন্ত ম্যাচের তৃতীয় অভারে এবার নিশ্চিত উইকেট পেতে পারত বাংলাদেশ। ৫ রানে ওপেনিং পার্টনারশিপের হতে পারত পতন।
সেখানে ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল এজ হয়ে ক্যাচ তুলে দেন উইকেটরক্ষক লিটন দাসকে। ক্লিয়ার এজের শব্দও পাওয়া যায় সেখানে।
তবে নিশ্চিত এই আউটেও নিরব ছিল বাংলাদেশ। কোনরকম রিভিউ নেয়নি তারা। রিপ্লেতে এরপর দেখা যায় বল ছুয়েছিল আতালের ব্যাট, অর্থ্যাৎ রিভিউ নিলে উইকেট পেতে পারত বাংলাদেশ।
যদিও আতালের ইনিংসটা তেমন বড় হয়নি। তবে শুরুতে উইকেট টেষ্টে নবাগত আফগানিস্তানকে চাপে ফেলতে পারত, নতুন বলে আরো উইকেট নিতে পারত বাংলাদেশ।
অপরদিকে শুরুতে ভুলভাল রিভিউ নিতে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ দল। ফলে প্রয়োজনের সময় রিভিউ নিতে ভুগে দ্বিধা দ্বন্ধে, যা প্রভাব ফেলে ম্যাচের প্রেক্ষাপটে।
সব মিলিয়ে রিভিউ নিয়ে বিভ্রাট এসেছে বাংলাদেশ দলের জন্য। টেষ্ট ক্রিকেটে সঠিক রিভিউ ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে।
কেননা একটা সিদ্ধান্ত এই ফরম্যাটে বড় ভুমিকা পালন করে। হয়তবা এই রিভিউ নিলে আফগানিস্তানকে আরো চেপে ধরতে পারত বাংলাদেশ, এই টেষ্টে থাকত আপার হ্যান্ডে।
তবে দিনশেষে রিভিউ নিয়ে বিভ্রাট উলটো ভক্তদের কাছে দিয়ে একটি হাস্যরসের মুহুর্ত, বাংলাদেশ দলের জন্য এসেছে আফসোস হয়ে।




