অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের মাঠে সিরিজ জয়। ঐতিহাসিক সেই সিরিজে বাংলাদেশ দলের অংশ ছিলেন তাসকিন আহমেদ।
অজিদের বিপক্ষে সেখানে পারফর্মও করেন এই পেসার। ওয়েবস্টার, স্টার্ক, রেনশ সহ তুলে নেন একাধিক উইকেট। এরপরও তাসকিনকে নিয়ে ছিল সমালোচনা।
সেই সমালোচনার কারণ ছিল তাসকিনের পেস ও আগ্রাসনের কমতি। ১৪০ গতিতে এর আগে নিয়মিত বল করা তাসকিনের বল নেমে এসেছিল ১৩০ এর নিচে, যা অনেকের কাছে ভয়ঙ্কর মনে হয়নি৷ অনেকেই তাই এই লাইনআপে উপর্যুক্তই মনে করেননি এই পেসারকে।
সেখান থেকে এবার জবাব দিতে সময় নিলেন না তাসকিন। আর সেটা দিলেন বল হাতেই
অষ্ট্রেলিয়া সিরিজে ইঞ্জুরি থেকে ফেরা তাসকিন বিশ্রামে থাকেন এশিয়ান গেমসে। এরপর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পুর্ণ ফিট তাসকিনকে পায় বাংলাদেশ।
আর সেটার ঝলক প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে পায় প্রথম অভারে। এবার তাসকিনের ইনসুইংএ পরাস্ত জিম্বাবুয়ের ধারাবাহিক ব্যাটার ব্রায়ান বেনেট। কোন রান করার আগেই লেগ বেফোরের ফাদে পড়ে বিদায় তার।
আরেক ওপেনার বেন কারেনেরও হয় একই পরিণতি। মাত্র ৬ রান করে তিনিও একইভাবে স্বীকার তাসকিনের।
এবার তাসকিনের সুইংটা ঠিকভাবে লাগাতে পারেননি ব্যাটে। ফলে তাকে ঘিরে লেগ বিফোর আবেদন করলে আবারো সারা আম্পায়ারের। ৫ম অভারে ১৭ রানে ২ উইকেট তুলে নিয়ে শুরুতেই প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে বাংলাদেশ।
পাওয়ারপ্লেতে আরো এক উইকেট তুলে নেন তাসকিন আহমেদ। নিজের চতুর্থ অভারে এবার আউট করেন তিনে নামা তাফাদজা সিগাকে।
এর আগে ৩ বাউন্ডারি হাকানো সিগা এবার চড়াও হতে চান তাসকিনের বলে। তবে তাসকিনের বাউন্সারটা তার জন্য হয় দুরহ, ফলে ব্যাটের কানায় লেগে বল উঠে হাওয়ায়। আর সেটাই তালুবন্দি করেন কিপার নুরুল হাসান সোহান।
ফিরে এসে প্রথম ৮ অভারের মাঝে জোড়া মেইডেন তাসকিনের। ৮ অভারে ৩ উইকেট তুলে নেন, সাথে দেন মাত্র ২৬ রান।
দলের ৭ বলের মাঝে বাকিরা রান দেন ৫ এর বেশি ইকোনমিতে, সেখানে মাত্র ৩ এর বেশি রান দেন তাসকিন। একইসাথে তুলে নেন টপ অর্ডারের ৩ টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেটও। এমন পারফর্মেঞ্চে তাসকিন নিজেকে যেমন জানান দেন, তেমনি জবাব দেন অনেক প্রশ্নের।
কারণ অনেকে তার শেষ দেখে ফেলেছিলেন দেশের ক্রিকেটে। তবে এর আগেও একাধিকবার কামব্যাক করেছেন তাসকিন, দেশের ক্রিকেটে ব্রান্ড হয়েই থেকেছেন। পেস বোলিংএ এখনও তাসকিন দেশসেরাদের একজন, সেটাই যেন প্রমাণ করলেন আরো একবার।




