সামনে বিশ্বকাপ, সেটাও ফুটবলের সবচেয়ে সফল দেশে। পুরো বিশ্বের মত ব্রাজিলের মানুষও ছিল উচ্ছাসিত।
সেই উজ্জাসের প্রতিফলন দেখা যায় ১৭ বছরের এক কিশোরের মাঝেও। রঙ তুলি হাতে তিনিও দাড়িয়ে যান রিও ডি জেনেরিও এর রাস্তায়, বিশ্বকাপ উপলক্ষে আকা শুরু করেন গ্রাফিতি। লোকাল ক্লাবের ঢোলাঢালা জার্সি পড়ে আসেন বিশ্বকাপের উৎসবে সামিল হতে।
পরের বার সেই ছেলেই দেশের হয়ে খেলতে নামেন বিশ্বকাপ। রঙ তুলি থেকে ফুটবলটাই আপন হয় তখন। এর মাঝে রাস্তায় একে বেড়ানো ছেলেটাই পায় বিশ্বজোড়া খ্যাতি।
পালমেইরাস থেকে ম্যানচেস্টার সিটি, এরপর আর্সেনাল, ইউরোপের বড় মঞ্চে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
ব্রাজিলের নাম্বার নাইন হিসেবেও জাগিয়েছিলেন সম্ভাবনা। সেলেসাও জার্সিতে যে করেছেন ১৯ গোল, যা সাম্প্রতিক সময়ে নেইমার বাদে করতে পারেননি আর কোন খেলোয়াড়।
কিন্ত জেসুসের জীবনের গল্প এখানেই শেষ নয়। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে একের পর এক শিরোপা জয় করার পর তাকে কিনে নেয় আরেক ইপিএলের দল আর্সেনাল। গানার্সদের প্রত্যাশা ছিল এই স্ট্রাইকারকে নিয়ে। আর সেটার শুরুটাও করেন বেশ দারুণ।
কিন্ত এরপর আসে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় বাধা। একের পর এক চোট তাঁর ক্যারিয়ারকে কঠিন করে তোলে।
বিশেষ করে হাঁটুর গুরুতর চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাঁকে। এমনকি টানা ৩ মৌসুম চোটের কারণের অর্ধেকের বেশি ম্যাচ খেলতে পারেননি জেসুস।
ছন্দ হারিয়েছেন, কমেছে গোলের সংখ্যা, আবারও প্রশ্ন উঠেছে তাঁর ফিটনেস ও সামর্থ্য নিয়ে। একসময় যে স্ট্রাইকারকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখেছিল আর্সেনাল, তিনিই হয়ে উঠলেন দলের বড় বোঝা।
এরপরই বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার খবর সামনে আসে। আর তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয়নি।
অনেকের প্রশ্ন ছিল, চোটে জর্জরিত একজন স্ট্রাইকারকে কেন দলে নিচ্ছে বার্সেলোনা? জুলিয়ান আলভারেজের মতো বড় নামদের সঙ্গে আলোচনার পর জেসুসকে বেছে নেওয়ায় সিদ্ধান্তটি নিয়েও ছিল নানা প্রশ্ন। কেউ কেউ তাঁর বার্সায় আসাকে নিয়ে হাসাহাসিও করেছেন।
কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে সমালোচকদের জবাব দেওয়ার সুযোগটা ঠিকই কাজে লাগাচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড
বার্সেলোনার হয়ে মৌসুমে ৭ ম্যাচে সুযোগ পেয়ে এর মাঝে করেছেন ৪ গোল। লা লীগা তো বটেই, গোল করেছেন চ্যাম্পিয়নস লীগেও।
শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়ে বুঝতে দেননি রাফিনহার অভাব। কোচ হান্সি ফ্লিকও তাঁর দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি প্রশংসা করেছেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, দীর্ঘদিনের চোটের দুঃসহ সময় পেরিয়ে জেসুস আবারও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছেন।
যে কারণে আবারো জাতীয় দলে ফেরার আলোচনায় জেসুসের। জাতীয় দলে জেসুসের অবদান ও তার কোয়ালিটি নিয়ে সন্দেহ নেই। এবার ফর্মে থাকা জেসুস যদি তাই না ফিরেন দলে, সেটা তার প্রতি অবিচারই হবে বেশ।




