শেষ বয়সে এসে আর কত অপমান হবেন রোনালদো? আগে বসেছেন বেঞ্চে,তাতে নারাজ হয়ে ক্ষমা চেয়েও এবার হলেন নিষিদ্ধই।
যখন লিওনেল মেসির জন্য সব নিয়ম বদলে দেয় আর্জেন্টিনা, সেখানে রোনালদোকে খুব একটা গুরুত্বই দিচ্ছেনা পর্তুগীজরা।
ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সামনে যেন একের পর এক নতুন চ্যালেঞ্জ। এবার পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা।
কোচ জর্জ জেসুসকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরেই এমন শাস্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। সঙ্গে গুনতে হবে ২৫৫ ইউরো জরিমানাও।
ফুটমুবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে পর্তুগাল দল ছাড়ার পর জেসুসের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছিলেন রোনালদো।
পরে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে দীর্ঘ বিবৃতিও দেন তিনি। সেখানে নিজের ভুলহ স্বীকার করে শাস্তি পাওয়ার বিষয়টিও মেনে নিয়েছিলেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলার।
তবে নিষেধাজ্ঞা ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট করেনি পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। আগামী ১৪ নভেম্বর ডেনমার্ক এবং তিন দিন পর ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে পর্তুগালের। ফলে এই দুই ম্যাচে রোনালদোর অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
এখানেই সামনে আসে বড় প্রশ্ন, ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এসে রোনালদোকে কি বারবার এমন বিতর্কের মধ্য দিয়ে যেতে হবে?
বয়স ৪১ হলেও গোলের ক্ষুধা এখনো কমেনি তাঁর। ক্যারিয়ারে ৯৮১ গোল করা এই তারকা আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতাও।
কিন্তু মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি মাঠের বাইরের নানা ঘটনা তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ সময়টাকে ক্রমেই আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসছে।
অন্যদিকে, লিওনেল মেসির সঙ্গে তুলনাও তাই নতুন করে সামনে আসছে। তবে দুজনের পথচলা, ব্যক্তিত্ব কিংবা পরিস্থিতি এক নয়।
মেসি যতটাই ঠান্ডা মাথার,ততটাই আবেগপ্রবন রোনালদো, মেসি যতটাই সতীর্থদের প্রিয়,ততটাই চোখের কাটা বনে গেছেন ক্রিস্টিয়ানো।
তবু রোনালদোর ক্ষেত্রে প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে, এত দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পরও কেন শেষ সময়ে এসে তাঁকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে?
মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে সমালোচকদের জবাব দেওয়ার অভ্যাস তাঁর পুরোনো। এবারও কি সেই পথেই ফিরবেন পর্তুগিজ মহাতারকা, নাকি এই নিষেধাজ্ঞা তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নতুন কোনো জটিলতা তৈরি করবে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।




