একসময় তাঁর পায়ে বল মানেই গ্যালারিতে উন্মাদনা, ডিফেন্ডারদের চোখে মুখে আতঙ্ক আর ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বাড়তি কিছুক্ষণ টিভির সামনে বসে থাকার আনন্দ।
তাঁর ড্রিবলিং, স্কিল আর অবিশ্বাস্য সব কারিকুরিতে মুগ্ধ হয়েছে পুরো ফুটবলবিশ্ব। কিন্তু সেই নেইমারের ক্যারিয়ারেই এবার যেন বিদায়ের সুর।
খুব শীঘ্রিই ফুটবল থেকে অতীত হয়ে যেতে পারে নেইমারের নাম। কিন্ত যে গল্পটা আরও অনেক দীর্ঘ হওয়ার কথা ছিল, সেই গল্পের শেষটা কেন এত তাড়াতাড়ি চলে আসছে?
শেকস্পিয়ার তার ম্যাগবেথ নাটকে ল্যাডি ম্যাকেবেথের সুরে বলেছিলেন “ আপনার চেহারা একটা আশ্চর্য বই, যদি তা মানুষ পড়তে পারে”।
নেইমারের পা যেন ছিল আশ্চর্য এক জাদুর কাঠি, সেই কাঠি যারা ধরতে পেরেছে সুখী তো হয়েছে তারাই। দিনশেষে তাই নেইমারের বিদায়ের বেদনার বড় স্বাক্ষীই তারা।
নেইমারের গল্পটা অবশ্য শুধু প্রতিভার নয়, অপূর্ণতারও। ২০১৩ সালে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর মেসি ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে গড়ে তুলেছিলেন ঐতিহাসিক আক্রমণভাগ।
২০১৫ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়, একাধিক লা লীগা টাইটেলও পেয়েছেন। সবই ছিল আরও বড় কিছুর ইঙ্গিত। অনেকেই ভেবেছিলেন, একদিন মেসি-রোনালদোর যুগ পেরিয়ে ফুটবলের রাজা হবেন এই নেইমারই।
কিন্তু বারবার চোট সেই স্বপ্নে আঘাত করেছে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাঁকে। পায়ের চোট, গোড়ালির সমস্যা, একের পর এক অস্ত্রোপচার আর একটির পর একটি ধাক্কা তাঁর ছন্দ কেড়ে নিয়েছে।
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীরও যেন আর আগের মতো সঙ্গ দিতে পারেনি। প্রতিভা ছিল, ইচ্ছাও ছিল, কিন্তু মাঠে নিজের সেরাটা দেখানোর সুযোগ বারবার কেড়ে নিয়েছে ইনজুরি। নেইমারের ক্যারিয়ার যে আরও দীর্ঘ হতে পারত, সেই আক্ষেপের সবচেয়ে বড় কারণ সম্ভবত এটাই।
যে কারণে মাত্র ৩৪ এসে ফুটবল ছাড়ার সামনে নেইমার জুনিয়ার। এই ডিসেম্বরে সান্তোসের হয়ে মৌসুম শেষ করবেন নেইমার।
এরপরই খেলা ছাড়তে পারেন নেইমি। একাধিক ক্লাবের সাথে গুঞ্জন শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত তার খেলা ছাড়ার সম্ভাবনাই প্রবল। আর তা হলে নেইমারের বরাদ্দকৃত ফুটবলের সময় আর নেই খুব বেশি
ফুটবল তাঁকে আরও অনেক কিছু দিতে পারত। হয়তো নেইমারও ফুটবলকে আরও অনেক কিছু দিতে পারতেন।
কিন্তু কিছু গল্পের শেষটা আমাদের ইচ্ছেমতো হয় না। আর নেইমারের গল্পে সবচেয়ে বড় কষ্টটা সম্ভবত এখানেই, তিনি ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই যেন বিদায়ের সময় এসে গেছে।




