আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে শেষ ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেটে হেরে সিরিজ হাতছাড়া হলো বাংলাদেশের। রহমানউল্লাহ গুরবাজ-আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের নৈপুণ্যে ২৪৫ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে ২-১ সিরিজ জিতে নিলো আফগানিস্তান। হতাশার আরো একটি দিন কাটলো বাংলাদেশের। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সেঞ্চুরি মিস করা আক্ষেপের দিনে সিরিজ হেরে আক্ষেপটা দিগুন হলো বাংলাদেশের। শুরুতে টসে জিতে আগেরদিনের মতো ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। আগের ম্যাচে ইঞ্জুরিতে পড়া নাজমুল হোসেন শান্ত না থাকায় এই ম্যাচের অধিনায়কত্বর দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নামেন মিরাজ।
বাংলাদেশের দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান তামিম ভালো শুরু এনে দিয়েছিলেন। এই দু’জন আউট হলে দীর্ঘদিন পর লাল-সবুজ জার্সিতে জাতীয় দলে ফেরা জাকির হাসান দুর্ভাগ্যবশত রান আউটে কাটা পড়েন। এরপর দলের হাল ধরেন মিরাজ। আগের ম্যাচগুলোর মতোই ব্যর্থ ছিলেন তাওহীদ হৃদয়রা। তবে সেখানে ধুকতে থাকা বাংলাদেশকে টেনে তুলেন মাহমুদউল্লাহ ও মিরাজ। মিরাজ ফিফটির পরে আউট হলে এক প্রান্তে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন মাহমুদউল্লাহ। নিজের সেঞ্চুরি আশা জাগালেও ব্যাক্তিগত ৯৮ রানে থামতে হয় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে।
২৪৫ রানে লক্ষ্যে খেলতে নামলে সেদিকুল্লাহ আতালকে বোল্ড আউট করে ফেরান আজকের ম্যাচে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া স্পিড স্টার নাহিদ রানা। তবে অন্য পাশে আঁকড়ে ধরে থাকেন ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ। আজমতউল্লাহ ওমরজাইকে নিয়ে অনবদ্য পার্টনারশিপে জয়ের দুরের পথটা অনেকটা সহজ করেন গুরবাজ। সেঞ্চুরি পাওয়ার পর গুরবাজ আউট হলে ম্যাচ জয়ের বাকি কাজটুকু করেন ওমরজাই ও মোহাম্মদ নাবি। শেষের ১৮ বলে যখন দরকার ১৬ রান মুস্তাফিজ বোলিংয়ে আসলে ১০ রান খরচায় আফগান জয়ের পরিসংখ্যানটা অনেকটা সহজ হয়ে যায়। শেষের ২ ওভারের যখন দরকার ৬ রান তখন শরিফুল ইসলামকে মিড অনের উপর দিয়ে ছক্কা মেরে সিরিজ জয়ের উল্লাসে মাতেন আফগান অলরাউন্ডার আজমতউল্লাহ ওমরজাই। এই ম্যাচ জয়ে ২-১ সিরিজ জিতে নিলো আফগানিস্তান।
সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ-
বাংলাদেশ ২৪৪/ ৮ (৫০)
মাহমুদউল্লাহ ৯৮
মিরাজ ৬৬
আফগানিস্তান ২৪৬/৫ (৪৮.২)
গুরবাজ ১০১
ওমরজাই ৭০
ফলাফলঃ- বাংলাদেশ ৫ উইকেটে পরাজিত




