পাঁচজন ডিফেন্ডার ঘিরে ধরেছিল তাকে, চারদিক থেকে চেষ্টা করেছিল থামাতে। কিন্তু ৩৮ বছর বয়সী লিওনেল মেসিকে আটকানো কি এতটাই সহজ?
মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে দ্রুত পাস দেন মেসি। এরপর বিদ্যুৎগতিতে এগিয়ে যান গোলমুখে।
একে একে তিনজনকে কাটিয়ে ঢুকে পড়েন বক্সে। এরপর আরও দুই ডিফেন্ডারের বাঁধা পেরিয়ে বাঁ দিকে হালকা বাঁক নিয়ে তৈরি করেন শুটিং স্পেস।
গোলকিপার কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিখুঁত শটে বল পাঠিয়ে দেন জালে।
গোলের পর পুরো মাঠ যেন থমকে গিয়েছিল কয়েক সেকেন্ডের জন্য। মায়ামির হয়ে এটিই ছিল তার দ্বিতীয় গোল, আর এটাই প্রমাণ করে মেসি আজও সেরা।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মায়ামির জন্য ছিল হতাশার। বাংলাদেশ সময় রবিবার সকালে প্রতিপক্ষ মন্ট্রিয়লের মাঠে খেলা শুরুর মাত্র দুই মিনিটের মাথায় গোল খেয়ে বসে ডেভিড বেকহ্যামের ক্লাব। স্বাগতিকদের হয়ে স্কোর করেন প্রিন্স ওয়াসু।
তবে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি মায়ামি। ম্যাচের ৩৩ মিনিটে মেসির পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান আলেন্দে। ৪০ মিনিটে আবারো আলো ছড়ান মেসি।
মন্ট্রিয়লের চার ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে চোখ ধাঁধানো এক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ২-১ ব্যবধানে।
বিরতির পরেও আক্রমণের ধার কমেনি। ৬০ মিনিটে সেগোভিয়া দুর্দান্ত এক শটে গোল করে ব্যবধান বাড়ান ৩-১ এ।
এর ঠিক দুই মিনিট পরই মেসির সেই জাদুকরী গোল যা ইতিহাস হয়ে থাকবে। তার স্ট্যামিনা, নিয়ন্ত্রণ আর টেকনিক দেখে বোঝার উপায় নেই যে তিনি ৩৮ ছুঁয়েছেন। খেলায় পুরো ৯০ মিনিট মাঠে দাপটের সঙ্গে খেলা এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি যেন সময়কে থামিয়ে দিয়েছেন।
এই জয়ের মাধ্যমে ইস্টার্ন কনফারেন্সে ইন্টার মায়ামি এখন ১৭ ম্যাচে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছে ৬ নম্বরে।
মেসি এই ম্যাচে গোল করলেন, অ্যাসিস্ট দিলেন, এবং সারা ম্যাচজুড়েই প্রতিপক্ষকে ভোগালেন।
বয়স বাড়লেও মেসির ম্যাজিক কমেনি এতটুকু। ৩৮ বছরেও তার পায়ে এমন বিস্ময়কর গোল, এমন নিখুঁত ভিশন আর ড্রিবলিং স্কিল প্রমাণ করে দেয় কেন তিনি ফুটবলের রাজা।
ফুটবলপ্রেমীদের চোখে তিনি শুধু একজন খেলোয়াড় নন, একজন জীবন্ত কিংবদন্তি। মেসি আছে বলেই খেলার প্রতি ভালোবাসা এখনো অমলিন।




