২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সকে পরাজিত করে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পিত, নিয়ন্ত্রিত ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেই জয় নিশ্চিত করে লা রোজা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে স্পেন। তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালের গতিময়তা ও সৃজনশীল ফুটবলে বারবার চাপে পড়ে ফরাসি রক্ষণভাগ। সেই চাপেরই ফল আসে প্রথমার্ধে। বক্সের ভেতরে ইয়ামালকে ফাউল করলে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। স্পটকিক থেকে নিখুঁত শটে দলকে এগিয়ে দেন মিকেল ওয়ারজাবাল।
বিরতির পর সমতায় ফেরার জন্য আক্রমণের গতি বাড়ায় ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে ও ব্র্যাডলি বারকোলাকে ঘিরে একাধিক আক্রমণ গড়ে তুললেও স্পেনের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় সেগুলো সফল হয়নি।
বরং দ্বিতীয়ার্ধে দ্রুতগতির এক দৃষ্টিনন্দন আক্রমণ থেকে ব্যবধান আরও বাড়ায় স্পেন। দানি ওলমোর সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ার পর পেদ্রো পোরো দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ফরাসি জালে বল পাঠিয়ে স্পেনের ফাইনালের পথ আরও প্রশস্ত করে দেন।
এর কিছুক্ষণ পর লামিনে ইয়ামাল আবারও বল জালে জড়ালেও ভিডিও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্তে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের কাছেই রাখে স্পেন। রদ্রির নেতৃত্বে মাঝমাঠের দখল ধরে রেখে ফ্রান্সকে কার্যকরভাবে চাপে রাখে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।
অন্যদিকে ম্যাচজুড়ে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেননি ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ তার গতিকে বারবার থামিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফিরতে না পেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয় ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
এই জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল পেরিয়ে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করল স্পেন। শিরোপার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী দল।




