বাংলাদেশের জান সাকিব আল হাসান । বিশ্বের ২০ টি ফ্রাঞ্চাইজির দলে খেলার অন্যন্ন রেকর্ড করেছেন বাংলার এই কিংবদন্তী ।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে সাকিব আল হাসানের নাম যেমন গর্বের প্রতীক, তেমনি এখন নতুন গর্বের নাম হয়ে উঠেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত।
তার দওয়া সিদ্ধান্তের বিপক্ষে মোট ১০টি রিভিউ নেওয়া হয়, যার মধ্যে ৮টি ব্যর্থ হয় খেলোয়াড়রা ।
এতেই বোঝা যায় সৈকত কতটা নিখুত । ভারত-ইংল্যান্ড এজবাস্টন টেস্টে মাঠ আম্পায়ার হিসেবে দারুণ পারফরম্যান্সে প্রশংসার ঝড় তুলেছেন তিনি। এমনকি খোদ হার্শা ভোগলেও অবাক হয়েছেন সৈকতের সিদ্ধান্তের ধার ও বিশুদ্ধতা দেখে।
সাম্প্রতিক এজবাস্টন টেস্টে ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সৈকত।
ম্যাচজুড়ে তার সিদ্ধান্তগুলোই প্রমাণ করে, তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম সেরা আম্পায়ার হয়ে উঠেছেন।
ম্যাচ চলাকালে তার দেওয়া সিদ্ধান্তের বিপক্ষে মোট ১০টি রিভিউ নেওয়া হয়, যার মধ্যে ৮টি ব্যর্থ হয়।
এই পরিসংখ্যান নিজেই বলে দেয়, সৈকতের চোখ কতটা নিখুঁত ও নির্ভুল।
ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের X অ্যাকাউন্টে সৈকতের প্রশংসায় লিখেছেন, “এই ম্যাচে আম্পায়ারিং দুর্দান্ত হয়েছে।
আপনি ক্রিস গ্যাফেনির কাছ থেকে স্ট্যান্ডার্ড আম্পায়ারিং প্রত্যাশা করবেন, তবে শরফুদ্দৌলা সৈকত ছিলেন দুর্দান্ত।”
বিশেষ করে টেস্টের পঞ্চম দিনে লাঞ্চের আগমুহূর্তে বেন স্টোকসের আউট নিয়ে তার দ্রুত ও নিখুঁত সিদ্ধান্ত ছিল দারুণ।
ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসের ৪১তম ওভারে ওয়াশিংটন সুন্দরর এক বল স্টোকসের প্যাডে লাগলে এলবিডব্লুর আবেদন করেন বোলার।
অনেকেই তখন দ্বিধায় থাকলেও সৈকত সঙ্গে সঙ্গে আউট ঘোষণা করেন।
স্টোকস রিভিউ নেন, কিন্তু দেখা যায় আম্পায়ার সৈকতের সিদ্ধান্তই একদম সঠিক। এমন সূক্ষ্ম ও আত্মবিশ্বাসী সিদ্ধান্ত একজন আম্পায়ারের দক্ষতার পরিপূর্ণ প্রতিচ্ছবি।
এই ঘটনাটি শুধু ম্যাচকেই রাঙিয়ে তোলে না, বরং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানচিত্রে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয় – এবার একজন আম্পায়ারের হাত ধরে।
শরফুদ্দৌলা সৈকত আইসিসি’র এলিট প্যানেলে জায়গা করে নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি আম্পায়ার।
এর আগেও তিনি আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন ম্যাচ পরিচালনায় নিজের মুন্সিয়ানার ছাপ রেখেছেন।
তার এই সাফল্য বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে যখনই গর্বের কথা ওঠে, তখন প্রথমেই উচ্চারিত হয় সাকিব আল হাসানের নাম – যিনি তার অলরাউন্ড নৈপুণ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পতাকা উঁচিয়ে ধরেছেন।
আজ সেই তালিকায় যোগ হলো আরেকটি নাম – শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত।
একজন নিখুঁত, দৃঢ়চেতা এবং আত্মবিশ্বাসী আম্পায়ার হিসেবে সৈকত এখন সারা বিশ্বের প্রশংসা কুড়াচ্ছেন, আর বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিচ্ছেন।
সাকিব যেমন মাঠে খেলায় দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন, সৈকত তেমনি খেলোয়াড়দের ন্যায় মাঠের অন্য প্রান্তে থেকেও বাংলাদেশকে গর্বিত করছেন।
এ যেন ক্রিকেটে বাংলাদেশি সক্ষমতার এক নতুন দিগন্ত – খেলোয়াড় ও আম্পায়ার, উভয় ক্ষেত্রেই বিশ্বমানের স্বাক্ষর।




