উইকেট, উইকেট, আর উইকেট! শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচে তিনটি উইকেট, তাও প্রতিবারই এনে দিয়েছেন দলের প্রথম সাফল্য।
এই গতিতারকা এখন যেন পরিণত হয়েছেন দলের উইকেটের প্রথম দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা এক নির্ভরযোগ্য প্রহরীতে।
আজ সিরিজের তৃতীয় ম্যাচেও ব্যতিক্রম ঘটেনি। বাংলাদেশ যখন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম সাফল্যের অপেক্ষায়, তখনই আবার ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত তানজিম সাকিব।
ইনিংসের চতুর্থ ওভারে ওভারের প্রথম বলেই তুলে নেন গুরুত্বপূর্ণ উইকেট—নিশান মাদুশকা। অফ স্টাম্পের বাইরের দুর্দান্ত লাইন ও লেন্থে করা বলটি এজ হয়ে প্রথম স্লিপে জমা পড়ে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে।
তানজিমের শিকারে পরিণত হয়ে ফিরে যান মাদুশকা, আর বাংলাদেশকে এনে দেন কাঙ্ক্ষিত ব্রেকথ্রু।
তিন ম্যাচে তিনটি প্রথম উইকেট! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এ এক বিরল ধারাবাহিকতা। শুধু বল হাতে নয়, আগের ম্যাচেই ব্যাট হাতেও প্রমাণ করেছেন নিজের সামর্থ্য।
২ য় ওডিই শেষের দিকে ২১ বলে ৩৩ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে দলের জন্য এনে দেন লড়াকু ভিত।
সেই ইনিংসই গড়ে দেয় বাংলাদেশের জয়ের পথ। একদিকে ব্যাটে, অন্যদিকে বলে, দুই দিকেই অবদান রেখে চলেছেন তিনি।
তানজিমের বলের ধার, গতি, এবং নিয়ন্ত্রণে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের দিশেহারা হতে দেখা যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই পেসার প্রতিটি ম্যাচেই যেন নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করছেন।
মাঠে তাঁর শরীরী ভাষা, আত্মবিশ্বাস, এবং আগ্রাসী মনোভাব শুধু প্রতিপক্ষকেই নয়, উজ্জীবিত করছে পুরো বাংলাদেশ দলকে।
আজকের ম্যাচেও সেই ছাপ স্পষ্ট। শুরুতেই উইকেট এনে দিয়ে জাগিয়ে তোলেন বাকি বোলারদের।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে যখনই কোনো নতুন পেসার উঠে আসেন, সবসময়ই থাকে অনেক প্রত্যাশা।
কিন্তু তানজিম সেই প্রত্যাশার চেয়েও বেশি কিছু দিয়ে যাচ্ছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, “তানজিমের মধ্যে আছে একধরনের পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতা, যা সাধারণত অভিজ্ঞ বোলারদের মাঝেই দেখা যায়।
তার নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসন এবং বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং ভবিষ্যতের জন্য আশাজাগানিয়া।”
বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল কিংবা মুশফিকুর রহিমদের পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্বে যারা থাকবেন, সেই তালিকায় নাম উঠে আসছে তানজিম হাসান সাকিবের।
তিন ম্যাচে টানা প্রথম উইকেট নেওয়ার এই কীর্তি শুধু পরিসংখ্যান নয়, এটি ভবিষ্যতের এক গৌরবময় ইতিহাসের সূচনা।
তানজিম যেন বলে দিচ্ছেন—বাংলাদেশ ক্রিকেটের পেস আক্রমণ এখন আর পিছিয়ে নেই, সামনে এগিয়ে যাচ্ছে এক নতুন যুগে।




