বাংলাদেশ ক্রিকেটে নেতৃত্ব মানেই একসময় ছিলো মাশরাফি বিন মর্তুজা। শুধু নাম নয়, ছিলেন এক প্রেরণার উৎস, এক সাহসের প্রতীক।
ক্যারিয়ারে একের পর এক চোট, অস্ত্রোপচার, বারবার মাঠের বাইরে ছিটকে পড়া,সব পেরিয়ে বারবার ফিরে এসে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সম্মুখযুদ্ধে।
তার অধীনেই বাংলাদেশ ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করে বিশ্বমঞ্চে নিজের জাত চিনিয়ে দেয়।
২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলেছে সেমিফাইনাল যা ছিল ইতিহাসের অংশ।
কিন্তু আজ? মাঠে নেই মাশরাফি, না আছেন আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে।
মিডিয়া, বোর্ড কিংবা ক্রিকেট বিশ্লেষণে যাদের নাম উচ্চারিত হয়, সেখানে কোথাও নেই দেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক।
অথচ বর্তমান দল যখন নেতৃত্বহীনতা, আত্মবিশ্বাসের অভাব আর একের পর এক পরাজয়ে ধুঁকছে পছন্দের ওডিয়াই ফরম্যাটে, তখন যেনো আরও বেশি করে মনে পড়ে মাশরাফির কথা। মাঠে দাঁড়িয়ে যিনি দলকে শুধু নেতৃত্ব দিতেন না, যুদ্ধ করতে শেখাতেন।
মাশরাফি ছিলেন এমন এক নেতা, যার চোখে চোখ রেখে কেউ হাল ছাড়তে পারতো না।
তিনি ছিলেন রণাঙ্গণের সেনাপতি, যিনি জানতেন কীভাবে ড্রেসিং রুমকে উজ্জীবিত করতে হয়।
তিনি বিশ্বাস করতেন খেলোয়াড় তৈরির আগে মানুষ তৈরি করা জরুরি।
আজ সেই মাশরাফি নেই ক্রিকেটের মূলধারায়। রাজনীতিতে থাকা এই মানুষটি যেন ক্রিকেট থেকে একপ্রকার ‘অবাঞ্ছিত’ হয়ে গেছেন।
এটি শুধু দুঃখজনক নয়, বিস্ময়করও। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল অধিনায়কের প্রতি এই অমনোযোগ কি নিছক ভুলে যাওয়া, নাকি ইচ্ছাকৃত উপেক্ষা?
‘চোখের আড়াল মানেই মনের আড়াল’এই কথাটি মাশরাফির বেলায় হয়তো খাটে না।
কারণ, বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী মানুষের হৃদয়ে তিনি আজও রয়েছেন ঠিক সেখানেই—মনের মাঝে, ভালোবাসার শীর্ষে।
সময়ের চাকা ঘুরে আবার হয়তো আলোচনায় আসবেন মাশরাফি, কিংবা তার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে উপলব্ধি করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট।
তবে তার অবদান, তার নেতৃত্ব, তার শিক্ষা তা কোনোদিন মুছে ফেলা যাবে না।




