আসরের গ্রুপ পর্বে পেয়েছেন ১ গোল। সেই গোল এসেছিলেন পেনাল্টি থেকে। তাতে লাউতারোকে নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল বিস্তর।
তবে ভিনিসিয়াস বা রোনালদোরা নকআউটে যা করতে পারেননি, লাউতারো মার্টিনেজ সেই কাজটাই করলেন। দেখিয়ে দিলেন তিনি লর্ড নন, তিনিই আসল ট্রাম্প কার্ড
শেষ ১৬ তে মিশরের বিপক্ষে যখন লাউতারো নেমেছেন, এরপরই বদলে যায় খেলার চিত্র।
মেসিকে উইঙে দিয়ে একের পর এক আসতে থাকে বক্সে আক্রমণ। আর তাতে ফলাফল মেলে, একের পর এক আক্রমন করতে থাকে আর্জেন্টিনা দল।
কিন্ত ভক্তদের তো তাতে ভড়বেনা মন। সমালোচকরাও পরিমাণ করবেন গোল এসিস্ট দিয়ে। তাই অপুর্ণতা রাখেননি সে ম্যাচে।
অতিরিক্ত সময়ে কাউন্টারে বল পেয়েছেন, এরপর সেই বল হোল্ড করেছেন। এরপর এঞ্জো ফার্নান্দেজের রান লক্ষ্য করে দিয়েছেন পিন পয়েন্ট ক্রস। আর সেখানেই লক্ষ্যভেদ আর্জেন্টিনা দলের, আদায় করে গোল। যে গোলে জয় পায় তারা।
তবে স্ট্রাইকার লাউতারোর গোল নিয়ে ছিল সমালোচনা। সেই কাজটাই করে দিলেন এরপরের দুই ম্যাচে।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১২০ মিনিটে গোল করে দিলেন কফিনের শেষ পেরেক। যেখান থেকে ফেরাটা ছিল না আর সম্ভব। আর ইংলিশদের বিপক্ষে জয়ের নায়কই এই লাউতারো।
মাঠে নামার ১০ মিনিটের মাঝে আদায় করেন গোল। বক্সে একের পর এক ক্রস দিচ্ছিল আর্জেন্টিনা, কিছু হেডও হচ্ছিল।
তবে গোল আর আসছিল না। কিন্ত লাউতারো নামার পর সেখানে আসে সমাধান। লাউতারোর করা হেডেই এরপর গোল করে আর্জেন্টিনা। আর সেটাই জয়সুচক গোল হয় আলভিসেলেস্তাদের জন্য।
এই নিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ খেলছেন লাউতারো মার্টিনেজ। এই দুই নাম্বার বিশ্বকাপে তিনি যত গোল করেছেন, তা করতে পারেননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৬ বিশ্বকাপ খেলে নকআউটে এক গোল রোনালদোর, সেটাও করেছেন পেনাল্টি থেকে। এমনকি ভিনিসিয়াস ও রোনালদো মিলিয়েও নকআউটে করতে পারেননি লাউতারোর থেকে বেশি গোল। অথচ ভিনি রোনালদোরা তাদের দলের সেরা তারকা, আর লাউতারোর বেলায় জোটে লর্ডের তকমা।
তবে পরিসংখ্যানের বাইরেও লাউতারোর সবচেয়ে বড় পরিচয়, তিনি বড় ম্যাচের খেলোয়াড়। সমালোচনা যতই হোক, নকআউট এলেই যেন বদলে যান এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। কখনো গোল, কখনো অ্যাসিস্ট, আবার কখনো বেঞ্চ থেকে নেমেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।
এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের নকআউটে তার গোল তিনটি। প্রতিটিই এসেছে দলের সবচেয়ে প্রয়োজনের সময়ে।
তাই ‘লর্ড’ বলে বিদ্রূপ করা মানুষগুলোকেও বারবার জবাব দিচ্ছেন মাঠেই। বরং হেটার্সদের জানান দিচ্ছে, এই লাউতারোর মত লর্ড হওয়া তাদের প্রিয় ভিনিসিয়াস ও রোনালদোদের স্বপ্ন। অন্তত পরিসংখ্যান তো সেটাই বলে




