একটা সময়ে বিশ্বে রাজত্ব করত পেসাররা৷ ব্রেট লি, জনসন, ওয়াসিম আকরাম সহ রাজত্ব করতেন বিশ্ব ক্রিকেটে। সেই সময় একজন কোচ বলে গিয়েছিলেন, বাংলাদেশ থেকে কখনও ১৪০ কিমি এর বোলার আসবেনা। সেই সময় বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দিতেন স্পিনাররা। যেইসব পেসাররা বল করতেন, তাদের বলের গতি ছিল ১২০-১৩০ কিমি এর ভিতর। সেটাও আবার অনেকসময় কমে যেত। ফলে পেস আক্রমণে বাংলাদেশের আক্ষেপ ছিল বরাবরই
সেই আক্ষেপ পুরণ করেন একজন। ধ্রুবতারার মত বাংলাদেশ ক্রিকেটে হাজির হন মাশরাফি মর্তুজা নামের একজন, যিনি বল হাতে ১৪০ কিমির বেশি গতিতে বল করতে পারেন।
তার পেসে পরাস্ত বিশ্বের বড় বড় ব্যাটার। সেই সময় বাংলাদেশের একজন পেসার খেলেছেন এশিয়া একাদশে, ছিলেন বোলার র্যাংকিং এর সেরা দশে।
বাংলাদেশের এক পেসার আইপিএলে বিক্রি হয়েছে ৬ কোটির বেশি মুল্যে।
পেস বিপ্লবে মাশরাফির ভুমিকা যে অনস্বীকার্য ছিল, সেটা বলাই যায়
কিন্ত মাশরাফি যা করতে পারেননি, সেটাই করেছেন মুস্তাফিজ। বিশ্ব ক্রিকেটে ম্যাশের মত ঝলক হয়ে এসেছেন।
সেই ঝলক ধরে রেখেছেন দীর্ঘদিন ধরে। ২০১৫ সালে অভিষেক হওয়ার পর ২০২৫ সালেও বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পেসার মুস্তাফিজ।
বোলিংএ নতুন অস্ত্র নিয়ে সবার নজর কেড়েছেন। বাংলাদেশের পেসার মাতাচ্ছেন বিশ্বের বড় বড় লীগ।
আইপিএলের মঞ্চে সাকিব আল হাসানের পর হয়েছেন নিয়মিত। টি২০ ক্রিকেটে হয়েছেন বাংলাদেশের আরেক ফেরিওয়ালা।
আধুনিক পেস বিপ্লবে তাই বাংলাদেশের রোল মডেল ধরা যায় মুস্তাফিজুর রহমানকে
কিছুক্ষেত্র ফিজ ও ম্যাশের থেকে পিছিয়ে থাকবেন তাসকিন, কিন্ত পেস বিপ্লবে তার আছে স্বকীয় ভুমিকা।
একটা সময় প্রতিভা নিয়ে আসলেও মাশরাফি, তালহা, নাজমুলরা ইঞ্জুরির সাথে লড়াই করে হারিয়ে গেছেন।
সেখানে তাসকিন শুরুতে প্রতিভা নিয়ে আসার পর নিজেকে হারাতে দেননি।
বরং পরিশ্রম করে ফিরে এসেছেন, নিজের গতির সাথে সুইংকে উন্নত করেছেন। তিন ফরম্যাটে ভরসাযোগ্য হওয়ার জন্য কাজ করেছেন।
তাসকিনের হাত ধরে বাংলাদেশ শুরু করে পেস বিপ্লব, যেখানে তার সাথে থাকেন ফিজ, শরীফুলরা।
তাই পেসি বাংলাদেশের সুচনায় তাসকিনের থাকবে বড় ভুমিকা।
প্রশ্ন হতে পারে এই তিনজনের মাঝে কে বাংলাদেশে নিয়ে আসে পেস বিপ্লব। এই তিনজনেরই বাংলাদেশের পেস আক্রমণে আছে বড় ভুমিকা।
পেস বোলিংএ বাংলাদেশকে এই পর্যায়ে আনতে ও বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে তিনজনই বড় অবদান রেখেছেন।
তাই এই প্রশ্নের উত্তর দর্শকদের কাছেই তোলা থাক৷ তবে নিরপেক্ষভাবে এদের তিনজনেরই আছে সমান অবদান, যাতে এগিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট।




