আর্জেন্টিনা থেকে উঠে এসে রিয়াল মাদ্রিদের দলে জায়গা পাওয়া ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুনহো।
অপরদিকে ‘নতুন নেইমার’ ট্যাগ নিয়ে ব্রাজিল থেকে চেলসিতে আসা এস্তেভিও উইলিয়ান।
সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় আছেন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার এই দুই শীর্ষ প্রতিভা। তাদের যোগ্যতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
তবে প্রশ্ন হচ্ছে, দুজনের মধ্যে কে এই মৌসুমে বেশি সফল হবেন?—সে নিয়েই বিস্তারিত থাকছে প্রতিবেদনে।
১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই দুজনই ছিলেন বিশ্বের নজরে। এবং ১৮ হওয়ার আগেই সময়ের সেরা দুই ইউরোপীয় ক্লাব তাদের দলে ভেড়ায়।
দুজনই প্রথম ম্যাচে নেমেছেন বদলি হিসেবে, দ্বিতীয় ম্যাচে পেয়েছেন মূল একাদশে সুযোগ। দুজনেরই পজিশন রাইট উইঙ্গার।
উপরন্তু তারা এসেছেন দক্ষিণ আমেরিকার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ থেকে।
স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় এস্তেভিও উইলিয়ান ও ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুনহো।
এস্তেভিওকে চেলসি আগেই দলে নিলেও এই মৌসুমেই প্রথম মাঠে নামেন তিনি। প্রাক-মৌসুমে সুযোগ পেয়ে করেন গোল।
এরপর চেলসির হয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে মূল একাদশে খেলেন এবং ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে নেমেই করেন একটি অ্যাসিস্ট। সেই ম্যাচেই হন ম্যাচসেরা।
অর্থাৎ মাত্র দুই ম্যাচেই নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করেছেন এস্তেভিও। ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে এই মৌসুমে প্রচুর সুযোগ পাবেন তিনি।
ড্রিবলিং ও স্কিল এস্তেভিওর মূল শক্তি। গোল এবং অ্যাসিস্ট করার দক্ষতাও তার রয়েছে।
চেলসির মিডফিল্ড যথেষ্ট শক্তিশালী হলেও আক্রমণভাগে অনেকদিন ধরেই সৃজনশীল একজন খেলোয়াড়ের অভাব ছিল।
সেই অভাব পূরণ করতেই ব্লুজরা তাকিয়ে থাকবে এস্তেভিওর দিকে।
অন্যদিকে গত মৌসুমে বেশ কিছু ক্লাবকে উপেক্ষা করে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুনহো।
যোগ দিয়েই প্রথম দুই ম্যাচে সুযোগ পান। দ্বিতীয় ম্যাচে শুরুর একাদশে নেমে একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করেন তিনি।
ড্রিবলিং, ফ্রিকিক—সবই পারেন, পাশাপাশি তার ফিজিক্যালিটি ও ডিফেন্সিভ ওয়ার্করেট দলকে দেয় বাড়তি ভারসাম্য।
বিশেষ করে মাস্তানতুনহো মাঠে থাকলে ভিনি ও এমবাপ্পের মতো খেলোয়াড়রা খেলেন আরো স্বাধীনভাবে।
সে কারণেই রদ্রিগো ও দিয়াজদের ভিড়ে এই পজিশনে তরুণ মাস্তানকে নজরে রেখেছেন কোচ জাবি।
যেভাবে শুরু করেছেন মাস্তান, আগামী দিনে তাকে ঘিরে সম্ভাবনা দেখছেন সমর্থকেরা।
মৌসুমের এখনও অনেক পথ বাকি। সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ এবং উত্থান-পতনের খেলা রয়েছে।
মাস্তানতুনহো ও এস্তেভিও—দুজনেরই সামনে সুযোগ আছে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার।
আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল—দুই দেশেরই আগামী দিনের ভরসা তারা। জাতীয় দলে এবং বিশ্বকাপের পরিকল্পনায়ও রয়েছেন দুজন।
তাই দুইজনই সঠিকভাবে উজ্জ্বল হয়ে উঠুক—এটাই প্রত্যাশা দুই দেশের সমর্থকদের।




