কথায় আছে ব্রাজিলের প্রতিভার অভাব নেই। কিন্ত ২৬ জনের ব্রাজিল মুল দলে এত চমক থাকবে, সেটাই বোধহয় আশা করেননি কেউ।
কার্লোর ২৬ সদস্যের দলে না থাকা তারকাই বেশি। আর এমন কিছু কার্লো এক্সপেরিমেন্টাল হিসেবে করেছেন, নাকি এটাই তার বেষ্ট স্কোয়াড তিনিই জানেন
গোলরক্ষক পজিশনে খুব বেশি চমক নেই, আছে আগের দলের ৩ গোলরক্ষকই৷ তবে এই জায়গায় পরিবর্তনের কথা ভেবেছিল সবাই।
অন্তত বাজে পারফর্ম করা বেন্তো ম্যাথুইসের জায়গায় লুইজ জুনিয়ার, ব্রাজাও বা অন্য কাউকে আশা করেছিলেন ভক্তরা।
তবে বড় চমক না থাকলেও খুব প্রত্যাশিত ছিল না এই ৩ নামই।
সেন্টার ব্যাক পজিশনেও একই চিত্র। এডার মিলিতাও থাকবেন না সেটা জানা গিয়েছিল আগেই।
আবার ইঞ্জুরি কাটিয়ে যে দলে ফিরবেন আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মেঘালাস এমনটাও জানা গিয়েছিল।
এর সাথে গত ২ ম্যাচে কার্লোর দলে ছিলেন পিএসজি অধিনায়ক মার্কুইনহস ও লিলের আলেক্সান্দ্রো রিবেইরো।
দুইজনই ভালো করেছেন, রেখেছেন ক্লিনশিট, থেকে গেছেন স্কোয়াডে। কিন্ত আরেক নাম নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল।
কেউ ভেবেছিলেন আসবেন বেরালদো, আবার কারো চোখে ছিল ফ্ল্যামেঙ্গোর লিও অর্তিজ।
তবে আবারো ফ্যাব্রিসিও ব্রুনোর দলে আসাও চমক হিসেবে দেখছেন অনেকে।
লেফট ব্যাকেও আছে অপ্রত্যাশিত চমক। আলেক্স সান্দ্রো দলে আছেন, শেষ দুই ম্যাচে ভালো পারফর্ম করেছেন।
তার সাথে অনেকে আশা করেছিলেন কার্লোস আগস্তকে। ক্রুজেও কাইকিও ছিলেন প্রাথমিক দলে, তাকেও ভেবে রেখেছিলেন অনেকে৷
কিন্ত এদের ভীরে দলে এলেন ডগলাস সান্তোস। রাশিয়ান ক্লাব সেন্ট জেনিত পিটার্সবার্গে খেলা সান্তোস অনেকটা অচেনা ব্রাজিলিয়ান ভক্তদের কাছেই৷
তবে এখানেই যেন কার্লোর স্কাউটিং এর দুরদর্শিতা।
এর সাথে এতদিন আলোচনায় থেকে ডাক না পাওয়ার পর হঠাৎ ডাক পাওয়া কাইও হেনরিকও অবাক করেছেন।
রাইট ব্যাকে সেখানে তেমন চমক নেই। মোনাকোর নিয়মিত ভ্যান্ডারসন আছেন। সদ্য রোমায় যাওয়া ওয়েসলিও আছেন।
আছেন ওয়েসলি। তবে এবার ১ জন লেফট ব্যাক বেশি নিয়েছেন কোচ, গতবার নিয়েছিলেন একজন রাইট ব্যাক বেশি।
অর্থ্যাৎ পরীক্ষা নিরীক্ষার দিকে নজর এই ইতালিয়ান কোচের।
মাঝমাঠে ক্যাসিমিরো আছেন। আছেন নিউক্যাসেল অধিনায়ক ব্রুনো গিমারেজ। তবে ব্রাজিল দলের হয়ে ধারাবাহিক জার্সন সুযোগ পাননি দলে।
দলে নেই আন্দ্রেস পেরেইরা বা কৌতিনহো৷ তবে দলে ফিরেছেন ওয়েস্ট হ্যামের লুকাস পাকুয়েতা।
তাদের সাথে দলে আছেন চেলসিতে আসা তরুণ মিডফিল্ডার আন্দ্রে সান্তোস। দলে জায়গা পাননি আটলান্টার এডারসন।
হঠাৎ করেই যেন দলে জায়গা পেলেন জোয়েলিনটন। এর আগে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি এই মিডফিল্ডার।
আক্রমণভাগে নেইমার নেই, নেই রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়াস, রদ্রিগো, এন্ড্রিক।
তবে নাম্বার নাইনে তারকার অভাব নেই। কুনহা টিকে গেছেন, রিচার্লিসনও কার্লোর প্রিয় শিষ্য হয়ে আছেন।
চেলসির জোয়াও পেদ্রো আছেন দলে। ব্রাজিল লীগের সর্বোচ্চ গোল করা জর্জকেও হতাশ করেননি কোচ আনচেলত্তি।
উইঙে এস্তেভিও, মার্টিনেল্লিদের সাথে অভিজ্ঞ রাফিনহা। তবে স্যাভিও এর ডাক মেলেনি কার্লোর দলে, নেই এন্থনিও।
চমক হিসেবে আছেন মার্শেই এর উইঙ্গার লুইস হেনরিক।
সব মিলিয়ে চমকপ্রদ স্কোয়াড ব্রাজিল দলের। দেখা যাক, এই দল নিয়ে কেমন করেন অভিজ্ঞ কোচ আনচেলত্তি।




