এশিয়া কাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সবসময়ই বাড়তি আবেগের।
এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শুরু থেকেই পাকিস্তানকে কোণঠাসা করে দেয় ভারতীয় বোলাররা।
মনে হচ্ছিল সীমান্তের টানটান উত্তেজনা যেন মাঠেই প্রতিফলিত হচ্ছে। হার্দিক পান্ডিয়া ও বুমরাদের আগুনে বোলিংয়ে শুরুতেই হাটুতে কাপুনি ধরে পাকিস্তানি ব্যাটারদের।
ইনিংসের প্রথম বলেই লেগ সাইডে ওয়াইড। কিন্তু টেকনিক্যালি নতুন বলে প্রথম বলেই বাজিমাত হার্দিকের।
দ্বিতীয় বলে সাইম আইয়ুব পয়েন্টে ধরা পড়েন বুমরার হাতে। টানা তিন ইনিংসে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার।
দ্বিতীয় ওভারে আরেক ধাক্কা। বুমরার প্রথম ওভারেই হাত খুলে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন মোহাম্মদ হ্যারিস।
মাত্র ৬ রানে দুই ওপেনার হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। একই ওভারে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়তে যাচ্ছিলেন ফখর জামান, তবে ডিআরএসে বেঁচে যান তিনি।
প্রথম দিককার ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করেন সাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান। বুমরাকে দুটি ছক্কা হাঁকালেও ফখর টিকতে পারেননি।
পাওয়ার প্লের শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৪২ রান দুই উইকেটে। এরপর স্পিন আক্রমণে নামেন অক্ষর প্যাটেল ও কুলদীপ যাদব।
জোড়া উইকেট তুলে নেন অক্ষর, ফেরান ফখর জামান ও সলমন আঘাকে। কুলদীপও জ্বলে ওঠেন, এক ওভারেই তুলে নেন হাসান নওয়াজ এবং মোহাম্মদ নওয়াজকে।
একমাত্র ফারহান কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও বাকিদের ব্যাটিং ছিল পরিকল্পনাহীন।
ভারতীয় বোলারদের বিপক্ষে পার্টনারশিপ গড়ার ন্যূনতম চেষ্টা দেখা যায়নি। বল ঘুরিয়ে সিঙ্গেল নেয়ার মনোভাবও ছিল না।
একেবারেই অবিবেচনাপ্রসূত ও আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে গিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় পাকিস্তান।
শেষদিকে শাহিন শাহ আফ্রিদি ব্যাট হাতে দলকে কিছুটা মান বাঁচানোর লড়াই উপহার দেন।
হার্দিকের শেষ ওভারে হাঁকান দুই ছক্কা, মোট ১৬ বলে অপরাজিত ৩৩ রান করেন।
তার ব্যাটে ভর করে পাকিস্তান অন্তত লড়াই করার মতো সংগ্রহ পায়। তবে পুরো ইনিংসে ভারতীয় বোলারদের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো।
ব্যাট হাতে নেমেও শুরু থেকেই আগ্রাসী ভারত। ওপেনাররা ঝড় তুললে পাকিস্তানি বোলাররা কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন।
বড় ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয় পাকিস্তানকে। ম্যাচ শেষে মনে হয়েছে সীমান্তের লড়াইয়ের প্রতিশোধ যেন মাঠেই নিয়ে নিলো পান্ডিয়ারা।




