এসিএল ইঞ্জুরি, একজন ফুটবলারের জন্য যা ভয়ঙ্কর অভিশাপ। এক ইঞ্জুরিতে মাঠে থাকতে হয় প্রায় এক বছর।
এরপর অনেকেই আর ফিরে পাননা আগের ছন্দ। ফলে ক্যারিয়ার যায়না আগের তালে।
সেই এসিএল ইঞ্জুরিতে ব্রাজিলের এডার মিলিতাও একবার নয়, পড়েছেন দুইবার। সেটিও টানা দুই মৌসুম।
অনেক ফুটবলার হলে শেষই হয়ে যেত ক্যারিয়ার। সেখানে বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে রাজত্ব করছেন এডার মিলিতাও।
সর্বশেষ ম্যাচেও দিলেন তার প্রমাণ
এস্পানিওল এর বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে নেমে ক্লিনশিট পায় রিয়াল মাদ্রিদ। আর সেখানেই রিয়াল মাদ্রিদের দুর্গ হয়ে দ্বাড়ান মিলিতাও।
লাল কার্ডে ছিলেন না হুজসেন। এন্থনিও রুডিগারও ইঞ্জুরির কারণে আছেন দলের বাইরে। ফলে মুল সেন্টার ব্যাকের দায়িত্ব আসে মিলিতাও এর কাছে।
সেই দায়িত্ব পালন করেন। একই সাথে দলের ওপেনিং গোলটাও করেন।
সেই গোলটাও করেন রকেট শটে। ডিবক্সের বাইরে থেকে বল কন্ট্রোল করেন। এরপর রকেট শট ছুড়েন গোলরক্ষক বরাবর।
যে শট ফেরাতে ব্যার্থ হন সার্বিয়ার মার্কো দিমিত্রিভিচ। ফলে সেখানে লিড পায় রিয়াল মাদ্রিদ।
একই সাথে খেলার টেম্পোকেও নিজেদের আওতায় নিয়ে আসে তারা।
গোলের সাথে ডিফেন্সেও মুল কাজটা করেন মিলিতাও। ম্যাচের সর্বোচ্চ ৯৪ সঠিক পাস দেন এদিন মিলিতাও।
ফাইনাল থার্ডেও পাস দেন ম্যাচের সর্বোচ্চ ১৮ বার। মোট ৬ টি ডিফেন্সিভ কন্ট্রিবিউশন তার। মোট ৫ টি ডুয়েলস জয় করেন।
একবার করেন ট্যাকেল, সেটিও লাষ্ট ম্যান ট্যাকেল, অর্থ্যাৎ নিশ্চিত গোল থেকে দলকে বাচান।
৩ বার ব্লকস, ১ বার ক্লিয়ারেন্স ও ৬ বার করেন রিকভারি। এমন পারফর্মেঞ্চকে আপনি পুর্ণ মার্ক দেবেনই।
জাতীয় দলের রাডারে ভালোভাবেই আছেন মিলিতাও। সর্বশেষ ম্যাচে না খেললেও বিশ্বকাপে অঘটন না হলে মিলিতাও খেলবেন, এটা অনেকটা নিশ্চিত। কিন্ত মুল একাদশে ফিরবেন কি মিলিতাও?
ক্লাবে ইঞ্জুরি থেকে এসে এসেন্সিও, রুডিগারদের টপকে জায়গা পেয়েছেন মুল একাদশে।
পারফর্মেঞ্চ দিয়েই সে জায়গা অর্জন করেছেন। জাতীয় দলে মার্কুইনহস ও মেঘালাস আছে।
এদের সাথে মুল একাদশের লড়াই মিলিতাও। তবে দলভেদে বা পারফর্মেঞ্চের ধারা অব্যাহত থাকলে মিলিতাও এর মুল একাদশে জায়গা পাওয়া অসম্ভব না। অপরদিকে এই দুইজনের কেউ যদি না থাকেন, প্রথম পছন্দ হিসেবে যে মিলিতাও আসবেন তাতে সন্দেহ নেই।
সব মিলিয়ে রাইট ট্রাকেই আছেন মিলিতাও। হয়ত দুইবার এসিএল না হলে আজ বিশ্বের সেরা পাচ ডিফেন্ডারদের একজন হতেন।
তবে এখনও বল পায়ে নিজের দক্ষতা দেখাচ্ছেন। বিশ্বকাপ পর্যন্ত এই সেন্টার ব্যাক সেই দক্ষতা ধরে রাখুক, এটাই চাওয়া সবার।




