গত কয়েক মৌসুম ধরে খেলেছিলেন ইপিএলের ক্লাব ফুলহ্যামে। কিন্ত সেখান থেকে এই মৌসুমে চলে আসেন ব্রাজিলে।
অনেক ক্লাবের অফার ছিল হাতে। এমনকি অধিক বেতনের প্রস্তাবও ছিল। তবে সবকিছুকেই উপেক্ষা করেন ব্রাজিলের মিডফিল্ডার আন্দ্রেস পেরেইরা।
যে কারণে যোগ দেন ব্রাজিলের ক্লাব পালমেরাসে। ফুলহ্যামের প্রায় ৩ মিলিয়ন বেতনকে উপেক্ষা করে আসেন ব্রাজিলের ক্লাবে।
আর সেখানে এসে সফলতা পেতে সময় লাগেনি তার।
পেরেইরার পালমেরাসের হয়ে অভিষেক ইন্টারন্যাশনালের বিপক্ষে। সে ম্যাচে বদলি নামেন তিনি।
২৮ মিনিট খেলে পাসিং, চাঞ্চ ক্রিয়েট, ট্যাকেল, লং বল সবকিছুতে পারদর্শীতা দেখান। তবে তার আসল ম্যাজিক দেখা যায় এরপর।
সিরিআ এর অভিষেকের পর কোপা লিপার্তোদেস খেলতে নামেন মাঠে। আর সেখানেই এসিস্ট করেন তিনি।
সেটিও আবার আর্জেন্টিনার বিখ্যাত ক্লাব রিভার প্লেটের বিপক্ষে। যে এসিস্টের উপর ভর করে ২-১ ব্যাবধানে জয় পায় পালমেরাস৷
সে ম্যাচে ৭৪ মিনিট খেলে চাঞ্চ ক্রিয়েট, ক্রস, লং বলে পারদর্শীতা দেখান। এরপরের ম্যাচে ফিরে তো নিজেকে ছাড়িয়ে যান।
মাত্র ১৫ মিনিট খেলে করেন জোড়া গোল।
ফোর্টলিজার বিপক্ষে সিরিআ এর ম্যাচে ৭৫ মিনিটে মাঠে নামেন। মাঠে নামার সাত মিনিটের মাঝে করেন এক গোল।
এরপর একই গুণিতক ফলো করেন, আরো সাত মিনিটের মাঝে করেন আরেক গোল। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো দুটি গোলই পেরেরা করেছেন বক্সের বাইরে থেকে।
৮২ মিনিটে বল নিয়ে আসেন ফিলিপে এন্ডারসন। বাড়িয়ে দেন ডিবক্সের সামনে থাকা পেরেইরার দিকে।
বল পেয়ে নিজের কন্ট্রোলে নেন পেরেইরা। জায়গা তৈরি করে নিয়ার পোষ্টেই শট করেন। লাফ দিয়েও যে শট ফেরাতে পারেননি গোলরক্ষক।
এরপর ৯২ মিনিটে ডিবক্সের সামনে মাঝামাঝি বল পান তিনি। আবারো করেন একই রকম শটে। তাতেই জোড়া গোল পান নিজে। দল পায় ৪-১ গোলের জয়।
অন্য অনেকের ব্রাজিল দলের নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন থাকে। তবে নিবেদনের বেলায় যেন টপ নচ পেরেইরা।
বেলজিয়ামে জন্ম নিলেও প্রথম বাইরের দেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় হিসেবে খেলছেন ব্রাজিলে। যখনই সুযোগ পেয়েছেন মেলে ধরেছেন।
তার মত একজন দরকার ব্রাজিল দলে। কেননা তার লং বল ব্রাজিলের মত দলের জন্য বেশ কার্যকর, যেখানে আছে অনেক গতিশীল উইঙ্গার।
এর বাইরে মাঝমাঠে ওয়ার্করেট ও ক্রিয়েটিভিটি আদায় করেন তিনি, যাও ব্রাজিলের জন্য খুব জরুরী।
মাঝমাঠে খেলতে পারেন নানা পজিশনে। হতে পারবেন যোগ্য বিকল্প। সেলেসাওদের হয়ে ২ এসিস্টও আছে তার। সবকিছু মিলিয়ে কার্লোর ভাবনার নাম হতে পারেন পেরেইরা।
পেরেইরা বিশ্বকাপে থাকবেন কিনা নিশ্চিত নয়। তবে তাকে নিয়ে যে ভাবতে বাধ্য হবেন কার্লো, তাতে নেই সন্দেহ কারো।




