নেইমার নেই, এই আলাপ পুরোনো। অনেক ভক্ত এটাকেই স্বাভাবিক নিয়ে নিয়েছেন। তার পিছনেও যথেষ্ট কারণ আছে।
২ বছর হয়েছে নেইমার নেই ব্রাজিল দলে। আগামী দিনে যে ফেরার সম্ভাবনা উজ্জ্বল তাও নয়।
ইঞ্জুরির কারণে শুরুতে বাদ পড়েছিলেন দল থেকে।
এরপর একাধিকবার দলেও ডাক পেয়েছিলেন, তবে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে জড়াবের আগেই ছিটকে গেছেন।
নতুন কোচ আনচেলত্তি এসে বার্তা দিয়ে গেছেন, সম্পুর্ণ ফিট হলেই নেইমারকে আনা হবে বিবেচনায়।
সেই ফিটনেস নিয়েও সংগ্রাম করছেন ব্রাজিলিয়ান এই সুপারস্টার। সান্তোসের হয়ে মাঠে নামলেও সেটাকেও করতে পারেননা নিয়মিত। এরপর দল ঘোষণার আগে বারবার হানা দেয় ইঞ্জুরি। ফলে দলে ফেরা আর হয়না।
এর মাঝে পারফর্মেঞ্চে উজ্জলতাও কমে গেছে আগের চেয়ে। যদিও টেকনিক্যালি নেইমারকে নিয়ে সন্দেহ নেই, তবুও তার সাম্প্রতিক ফর্ম কমতির কারণে অনেকে জোড় গলায়ও তাকে নেওয়ার দাবি করতে পারেনা।
দল ঘোষণার পর তাকে নিয়ে আলোচনাও কমে এসেছে। সবই যেন স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে দিন দিন।
কিন্ত অনেক ব্রাজিল ভক্তের কাছে এমন কিছু তো স্বাভাবিক নয়। সাম্বার দেশ ব্রাজিল।
যে সাম্বার টানে বিশ্বে কোটি ভক্ত পেয়েছে তারা। অনেকের কাছে সেই ফুটবল মানেই নিছক আনন্দ, পায়ের কারুকৌশল।
টিম গেইম, কোচের ট্যাক্টিক্স বা মডার্ন ডে ফুটবল, এইসব অনেকের কাছে মুখ্য নয়৷ আর তাদের জন্যই যেন নেইমার এসেছেন ফুটবল দেবতার দুত হয়ে।
তবে কি নেইমার আধুনিক ফুটবলের জন্য মাননসই না।
এমন কথা তার শত্রুরাও বলতে পারবেনা, কেননা ইতিহাস ও পরিসংখ্যান তার পক্ষে কথা বলে।
যে কারণে বছরের পর বছর দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, শিরোপা জিতিয়েছেন, ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোল করেছেন। যে কারণে নেইমারকেই খুজে ফিরে সেলেসাও ভক্তরা।
বিশ্বকাপেও এই নেইমারের প্রতীক্ষায় থাকবে তারা। নেইমারকে ছাড়া বিশ্বকাপে গেলে হয়ত খেলায় নজর থাকবে তাদের, কিন্ত সেভাবে মন টানবেনা।
ঠিক যেমন লবণ ছাড়া তরকারির মত, যেখানে খাওয়া ঠিকই যাবে, তবে থাকবেনা স্বাদ।
ফুটবলের স্পর্শে, সৌন্দর্যে, উপভোগে নেইমারকে খুজবে সেলেসাও ভক্তরা। কিন্ত সেটা কি বাস্তবতার মুখ দেখবে?
বিনোদনের জায়গা থেকে খেলাধুলা বর্তমানে যেন প্রযুক্তির অংশে রুপান্তরিত হয়েছে।
কিন্ত দিনশেষে ঐ কৃত্রিমতার বাইরে নেইমিরাই আকর্ষণ কাড়েন ফুটবলারের। তাকে ছাড়া ব্রাজিল বিশ্বকাপে গেলে, মন কাড়বে কি ভক্তদের?




