প্রতিদিন বলা হয়, বিস্তারিত থাকবে প্রতিবেদনে। আজকে সেটা বলা হয়নি, কারণ পেলেকে নিয়ে বিস্তারিত বলতে গেলে কেটে যাবে ঘন্টার পর ঘন্টা।
যে কারণে ফিফা থেকেই সরাসরি বলাই হয়, পেলের নামটাই যথেষ্ট।
কেননা তাকে নতুন করে পরিচয় করার কিছু নাই, দর্শকমহলে তার পরিচিতি যথেষ্টই।
পুরো নাম এডসন আরান্তেস যে নাসিমেন্ত, যিনি খ্যাতি পেয়েছেন তার ডাকনাম পেলেতে।
জন্ম ১৯৪০ সালের আজকের এই দিনে, ব্রাজিলের শহর সাও পাওলোতে৷ ৯ বছর বয়সে মারাকানা স্টেডিয়ামের সেই ফাইনাল দেখেন পেলে।
সেদিন ব্রাজিলের কাছ থেকে হেরে যাওয়া পেলেকে ছুয়ে যায়। এরপর প্রতিজ্ঞা করেন, ব্রাজিলকে শিরোপা জেতাবেন তিনি, হবেন সর্বকালের সেরা।
১৩ বছর বয়সে পেলেকে দেখে এমনটা ভাবেনও ওয়ালদেমার দে ব্রিতো। ১৩ বছর বয়সে সাও পাওলোর ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপে পেলেকে দেখেন ব্রিতো।
সেই খেলা দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকে সান্তোসে ট্রায়ালের ব্যাবস্থা করে দেন। সেখানে সান্তোসের কোচকে বলেন এ হবে একদিন বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়।
ট্রায়াল দেখে অবাক বনে যান সান্তোস কোচ, এক সেশন দেখে পেলেকে সুযোগ দেন মুল দলেই।
১৫ বছর বয়সে সান্তোস মুল দলে সুযোগ পান, ১৮ বছর পর ছাড়েন এই ক্লাব। মাঝে ৬৪৩ ম্যাচে করেন মোট ৬২৯ গোল।
সান্তোসের হয়ে দুইবার কোপা লিপার্তোদেস ও দুইবার ইন্টার কন্টিনেন্টাল ট্রফি পান, ব্রাজিলের লীগ শিরোপা জয় করেন মোট ৬ বার, হন দলটির সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতা।
সান্তোসে অভিষেকের পরের বছর অভিষেক হয় ব্রাজিল দলে। ১৬ বছর বয়সে ব্রাজিল দলে অভিষেক, ১৭ বছরে বিশ্বকাপে পা, আসরে ৪ ম্যাচে ৬ গোল, ফ্রাঞ্চের বিপক্ষে হ্যাট্রিক, নকআউট মঞ্চে প্রথম হ্যাট্রিক।
৯ বছর বয়সে যে স্বপ্ন দেখেন পেলে, ১৭ তে এসেই সেটা পুরণ করেন। তবে সেবারই থেমে যাননি পেলে, এরপর আরো ২ বার বিশ্বকাপ জয় করেন পেলে। ৪ বিশ্বকাপে ১৪ ম্যাচে তার গোল এসিস্ট ২২ টি, ১২ গোলের সাথে আছে ১০ এসিস্ট।
এর মাঝে ১৯৬২ সালে ইঞ্জুরির কারণে খেলেন মাত্র ২ ম্যাচ, নতুবা এই পরিসংখ্যানে হয়ত পেলে চলে যেতে ধরা ছোয়ার বাইরে। ব্রাজিলের হয়ে ৯২ ম্যাচে করেন ৭৭ গোল, যাতে হয়ে যান ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
যে রেকর্ড ৫০ বছর ধরে অক্ষত। ৩ বার বিশ্বকাপ পাওয়া একমাত্র ফুটবলারের নাম পেলে। সব ধরণের ম্যাচে পেলের ১২০০ এর অধিক গোল আছে গিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে। অফিশিয়াল রেকর্ডেও তিনি আছেন তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে।
সব মিলিয়ে ফুটবলের এই মহারাজার জীবন থেমে যায় ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর। তবে জীবন থামিয়ে দেওয়ার পরও পেলে যেন থেকে গেছেন ইহলোকে, তার রেকর্ডের মাধ্যমে, তার স্কিল, দক্ষতা ও অর্জনে। তাই আজও জন্মদিনে পেলে স্মরণীয়, আজও পেলে ফুটবলের মহারাজা। শুভ জন্মদিন মহারাজা।




