জোড়া গোল করেছেন, এর মাঝে এক গোল করেছেন পেনাল্টিতে। এমন কীর্তি কি দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলেও বিরল?
কিংবা বাংলাদেশের কেউ এরকম করলেও কি অবাক হবার থাকবে এত। কিন্ত সেই অবাকটা হতে হবে আপনাকে।
কেননা আপনি যখন বাংলাদেশের ফুটবল সম্পর্কে জানেন, আপনি যখন খেলাটা দেখেন, যখন নেপালের বিপক্ষে সবার পারফর্মেঞ্চ দেখেন, তখন সেই অবাক হতে হয় আপনাকে। বলতে হয় হামজা অবিশ্বাস্য।
মরুভুমির বুকে অনেকে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে আসেন, অনেকে থাকে পানির দিশা হয়ে। হামজা যেন মরুভুমির বুকে বিশাল জলরাশি।
একই সাথে নেপালকেও হামজা বুঝিয়ে দিলেন কোন পর্যায়ের খেলোয়াড় তিনি। সতীর্থদের হামজা বুঝিয়ে দিলেন, ফুটবলটা এভাবেই খেলতে হয়।
নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের ভুলে যাওয়ার মত প্রথমার্থ। কাবরেরার বাজে কোচিং, সাদের ভুল, ট্যাকেলিং ও ওয়ান ভি ওয়ানে ব্যার্থতা।
সোহেলের শিশুসুলভ ক্লিয়ারেন্স ও ব্লক মিস। যেন আরো একবার পাড়ার ফুটবলের চিত্র বাংলাদেশের জাতীয় দলে।
এর উপর ব্যাক পাসের উপর ব্যাক পাস, খেলোয়াড়রা সুযোগ মিস করছেন, কিউবা সোমিতরা বেঞ্চে বসে আছেন।
অগত্য হামজাই এগিয়ে এলেন, দেখিয়ে দিলেন তিনি আন্তজার্তিক সর্বোচ্চ পর্যায়ের খেলোয়াড়। ইংল্যান্ডের বয়সভিত্তিক দল থেকে ইপিএল মাতিয়েছেন বহুদিন, এই হামজাকে দমন করা যাবেনা।
হলোও সেটা, দ্বিতীয়ার্থের শুরুতে বাংলাদেশ দলকে ম্যাচে ফেরালেন। সেটাও কি অবিশ্বাস্য ভাবে।
ফাহিমের বাড়ানো ক্রস থেকে বল লক্ষভ্রষ্টই হচ্ছিল, তবে সেখান থেকে আবারো বল পায় বাংলাদেশ। আর সেখানে বাইসাইকেল কিক হামজার।
ডান দিকে থাকা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেনি শুধু, চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল নেপালের গোলরক্ষকের। যেখানে সবাই মিস করে সহজ সুযোগ, সেখানে হামজা দেখালেন অবিশ্বাস্য কিছুই।
গোল পেয়ে আরো উজ্জ্বল বাংলাদেশ। এবার ভুল করেই বসল নেপাল। রাকিবের ইন্টারসেপশন, গতি কাজে লাগিয়ে আদায় করলো বল।
সেখান থেকেই রাকিবকে ফেলে দেয় নেপাল দল, পেনাল্টি বাংলাদেশের। সমতায় থাকা ম্যাচে যা ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
তবে নেপালের গোলবারের নামটাও হেভিওয়েট দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে। ৩৫ বছর বয়সী কেরান খেলেছেন ১০০ এর অধিক ম্যাচ, আইএসএলের মত লীগে খেলেছেন। সেই কেরানের সামনে হামজা নিলেন প্যানেকা শট।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্য কেউ যেখানে থাকত নার্ভাস, সেখানে হামজার প্যানেকা যেন তার উচ্চতা তুলে ধরে।
৫ ম্যাচে ৪ গোল, এক ম্যাচে জোড়া গোল। এক গোল বাইসাইকেল কিকে, আর এক গোলে প্যানেকায়।
অথচ হামজা একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার, যিনি বল রিকভার ও বিল্ডাপ করেন নিয়মিত।
আর সেখানেই প্রশ্ন থাকে, আর কি করবেন হামজা। এই হামজাকে পাওয়া যেন দেশের ফুটবলে চাদের টুকরো পাওয়া।




