জোয়াও পেদ্রো, নামটা শুনলে আপনার মাথায় আসতে পারে ব্রাজিলিয়ান এটাকিং মিডফিল্ডার, যিনি খেলে থাকেন চেলসি দলে।
জাতীয় দলের হয়েও বর্তমানে নিয়মিত খেলছেন পেদ্রো। তবে এবার অন্য এক পেদ্রোর সন্ধান পেলো ব্রাজিল দল।
আগামী দিনে যে পেদ্রো হতে পারেন ব্রাজিলের মহাতারকা।
এক ম্যাচে পেদ্রো এমন কিছুই করেছেন, যেটা চাওয়া ছিল ব্রাজিল ভক্তদের অনেকদিন ধরেই। টাইব্রেকে ব্রাজিলের হতশ্রী অবস্থা ছিল অনেকদিনের। বিশেষ করে সিনিয়ার দলে তো একাধিক খেলোয়াড় টাইব্রেকে ভুগেছেন, ব্রাজিল দলও এই টাইব্রেকের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক আসর থেকে বাদ পড়েছে। সেই টাইব্রেকেই এবার দলের ত্রাতা হলেন জোয়াও পেদ্রো।
অনুর্দ্ধ ১৭ বিশ্বকাপের নকআউটে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে একাই ৩ সেভ দেন পেদ্রো। তার ৩ সেভের কারণে প্যারাগুয়েকে সাডেন ডেথে হারিয়ে বিশ্বকাপের পরের রাউন্ডে যায় ব্রাজিল দল। আর সেখানেই দলকে জেতান জোয়াও পেদ্রো।
টাইব্রেকে প্রথম শটে গোল করে প্যারাগুয়ে দল। গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান লেদেসমা। এরপর প্রথম শট মিস করে ব্রাজিল দল৷
আর সেখানেই পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিল দল। শুরুর ৩ শটেই প্যারাগুয়ে গোল করেন। তখন ব্রাজিলকে টিকে থাকতে হলে সেভের ছিল না বিকল্প। আর সেই সেভটাই দেন সান্তোসের গোলরক্ষক পেদ্রো।
প্যারাগুয়ের চতুর্থ শট নিতে আসেন নুনেজ। তার মাঝ বরাবর দারুণ গতির শট হাত লাগিয়ে ফেরান পেদ্রো।
এরপরে প্যারাগুয়ের হয়ে শট নেন করনেল। তার শটও হাতে লাগিয়ে বারের দিকে পাঠালেও ভাগ্যগুণে গোল পায় প্যারাগুয়ে। ফলে ম্যাচ যায় সাডেন ডেথে।
সেখানে শুরুর শট ঠেকিয়ে দেন পেদ্রো। ক্রিস্তালদোর শট ঠেকিয়ে দেন পেদ্রো, তার ডানদিকে মারা শট ফিরিয়ে ব্রাজিলকে দেন জয়ের সুবাতাস। যদিও সে শটে গোল করতে ব্যার্থ হয় সেলেসাওরা, বাড়ে আক্ষেপ। তবে এরপরের শটে আবারো সেভ দেন পেদ্রো। এবার আর ভুল করেনি ব্রাজিল, পাকেকাও এর দারুণ পেনাল্টি গোল হলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে সেলেসাও যুবারা৷
শুধু যে টাইব্রেক সেভ দেন পেদ্রো এমনটা নয়, ম্যাচের পারফর্মেঞ্চেও দারুণ তিনি।
বিশ্বকাপে ৪ ম্যাচে ৩ ক্লিনশিট তার, হজম করেন মাত্র ১ গোল। সান্তোসের যুব দলে ১৬ ম্যাচে ৪ ক্লিনশিট তার, হজম মাত্র ২১ গোল।
এছাড়া অনুর্দ্ধ ২০ লেভেলেও খেলেছেন পাউলিস্তা প্রতিযোগীতায়। বিশ্বকাপে এসে এবার নিজেকে ভালোভাবেই মেলে ধরলেন পেদ্রো। এবার তার কাছে একটাই চাওয়া, অন্য অনেক ব্রাজিলিয়ানের মত সে যাতে হারিয়ে না যায়।




