ম্যাচের অন্তিম মুহুর্তে তার শেষ শটটা যখন বারে লেগে অল্পের যখন হলো লক্ষ্যভ্রষ্ট, বেদনায় মাটিতেই শুয়ে পড়লেন এস্তেভাও।
চোখমুখে হতাশা, দলকে না জেতাতে পারার আক্ষেপ। তবে ব্রাজিল ভক্তরাও বলে উঠলো, একা আর কত করবেন এস্তেভাও।
তার শেষ শটেও একাধিক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে উইক ফুটে বল এনে যে ডিছিশন মেকিং এর দক্ষতা দেখিয়েছেন, সেটা তো অনেক অভিজ্ঞরাও পারেন না। এস্তেভাও পারছেন, যে কারণে দিনে দিনে বিশেষ হচ্ছেন ভক্তদের কাছে।
তিউনিসিয়ার সাথে ব্রাজিল জিতেনি, হারেনি। জয় পরাজয়ের মাঝে ব্রাজিলের এই ব্যাবধান গড়া মানুষটা এস্তেভাও উইলিয়ান।
ভিনি রদ্রিগোরা আক্ষেপ বাড়িয়েছেন, বল মিস করেছেন। অনেক সময় তো ভিনির আক্রমণ মিস করে হয়েছে কাউন্টার।
এর বাইরে রদ্রিগো দেখিয়েছেন স্বেচ্ছাচারিতা, বারবার একা শট করতে গিয়ে সুযোগ হারিয়েছেন। বারবার ব্যার্থ হয়েছেন ভিনি ড্রিবলিংএ, খেলায় দেখা গেছে ছন্দহীনতার অভাব।
আর সেখানেই ত্রাতা হয়ে আসেন এস্তেভাও উইলিয়ান। পুরো ম্যাচে দেখান, কেন তাকে বলা হয় নতুন নেইমার।
পরিসংখ্যানও এস্তেভাওকে স্বাক্ষ্য দেবে এই ম্যাচে। পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের একমাত্র গোল, ৮৫ ভাগ হারে ৩৫ পাস।
২ বার চাঞ্চ ক্রিয়েট করেন, ৫ বার করেন শট। ২ বার সফল ড্রিবলিং ও ৭ বার ফাইনাল থার্ডে পাস দেন।
১ বার শট ফিরে আসে বারে লেগে, আর দুইবার হয় ব্লকড। ৫ বার কর্নার করেন, ৪ বার জয় করেন ডুয়েলস। ২ বার কি পাসের সাথে থাকে মোট ৬৯ টাচ।
তবে পরিসংখ্যানের বাইরেও এস্তেভাও কম কিছু দেখাননি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিলেন এনার্জিটিক, রাইট উইঙ থেকে কখনও মাঝে এসেছেন, আবার কখনও নিচে নেমেও বল নিয়েছেন।
অন্যদের সাথে বোঝাপড়া ছিল দারুণ। একবার প্রায় পেনাল্টি আদায় করেই নিয়েছিলেন, আরেকবার অল্পের জন্য হন গোলবঞ্চিত।
ডানদিক থেকে যতক্ষণ ছিলেন, প্রতিপক্ষের জন্য ছিলেন আতঙ্ক হিসেবে। নেইমার খেলায় যেমন আকর্ষণ ও ভরসার ছাপ পাওয়া যায়, সেটাই যেন ছিল এস্তেভাও এর খেলায়।
আর যে কারণেই এস্তেভাওকে নিয়ে বাড়ছে আশা। সন্দেহ নেই, তিউনিশিয়া ম্যাচের বড় প্রাপ্তি এই এস্তেভাও।
ভিনি রদ্রিগোরা ক্লাবে দাপিয়ে জাতীয় দলে খেই হারান। এত বছরেও নিজেদের জাতীয় দলে পরিসংখ্যান মুখ লুকানোর মত।
এস্তেভাও সেখানে হাল ধরেন, দলের জন্য লড়াই করেন। এমনটা শেষ দেখেছিল সবাই নেইমার থেকেই।
এস্তেভাওকে নিয়েই তাই আশা বড়। এস্তেভাও সেটা বাস্তবায়ন করুক আগামী দিনে, এমনটাই চাওয়া থাকবে সেলেসাও ভক্তদের।




